ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নিখোঁজের ১৫ দিন পর মর্গে মিলল লাশ, মাথায় ছিল গুলির ৮ চিহ্ন

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৩৩, ২১ আগস্ট ২০২৪
নিখোঁজের ১৫ দিন পর মর্গে মিলল লাশ, মাথায় ছিল গুলির ৮ চিহ্ন
নিহত কামরুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গিয়ে গত ৪ আগস্ট নিখোঁজ হন মো. কামরুজ্জামান। এ ঘটনার ১৫ দিন পর (১৯ আগস্ট) রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তার গুলিবিদ্ধ লাশের সন্ধান পান স্বজনরা।

নিহত মো. কামরুজ্জামানের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও চরআলগী ইউনিয়নের চর কামারিয়া গ্রামে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ওই গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তিনি চর কামারিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় ছেলে। কামরুজ্জামানের দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে ১০ বছর বয়সী বড় মেয়ের নাম জারিন, মেজ ছেলের নাম আতনান (৮) এবং ৫ মাস বয়সী ছোট ছেলের নাম গালিব আব্রার।

Advertisement

নিহতের স্ত্রী শামীরা জাহান পপি বলেন, আমার স্বামী ঢাকার উত্তরায় থেকে ভাড়ায় প্রাইভেট গাড়ি চালাত। তবে কিছুদিন আগে সে পোল্যান্ড যাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলো। এরই মাঝে দেশে আন্দোলন শুরু হলে গত ৪ আগস্ট সে উত্তরায় ছাত্রদের সঙ্গে মিছিলে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আমরা তার সন্ধান পাইনি। সবশেষ গত ১৯ আগস্ট তার লাশ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে আছে জানতে পারি। এর আগে গত ৪ আগস্ট থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার পর থেকে হাসপাতাল মর্গে অজ্ঞাত হিসেবে তার লাশ পড়েছিল। 

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, কামরুজ্জামান প্রাইভেটকার চালিয়ে সংসার চালাতেন। বাবা থাকেন সৌদিতে, বড় ভাই থাকেন বেলজিয়ামে। এ কারণে তিনিও ঢাকার উত্তরায় বসবাস করে ড্রাইভিং করার পাশাপাশি পোল্যান্ড যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

কামরুজ্জামানের শ্যালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মর্গে পড়ে থাকা লাশের আঙুলের ছাপ মিলিয়ে পরিচয় শনাক্তের পর পুলিশ আমাদের খবর পাঠায়। পরে মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করে বাড়ি নিয়ে এসেছি। তার মাথা ও শরীরে আটটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। 

এ বিষয়ে চর কামারিয়া সরকারি প্রাথমিকের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিক বলেন, ঢাকা থেকে পুলিশের এক কর্মকর্তা আমার কাছে ফোন করে কামরুজ্জামানের ছবি পাঠান। ওই ছবি দেখে চিনতে পেরে কামরুজ্জামানের পরিবারকে জানাই। পরে তারা গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!