লক্ষ্মীপুরে মৎস্য খাতে ৮০ কোটি টাকার ক্ষতি
গত পাঁচদিনের বৃষ্টিপাতে লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলায় মৎস্য খাতে অন্তত ৮০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে মৎস্য বিভাগ৷
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, পুরো জেলায় ৪০ হাজার পুকুর ভেসে গেছে। এতে পুকুরের সব মাছ ভেসে গেছে। এ জেলায় প্রায় ৫৪ হাজার পুকুর রয়েছে। এরমধ্যে ৪০ হাজার পুকুরের ৯০ শতাংশ ভেসে মাছ বের হয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে ৫ হাজার ৩০০ হেক্টর মাছ চাষের জলাশয়।
মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, যেভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে এতে আরো পুকুর ভেসে যেতে পারে। তাই ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।
সদর রামগতি-কমলনগর ঘুরে দেখা গেছে, চাষিদের পুকুর ডুবে যাওয়ায় মাছ বের হয় গেছে। মাছগুলো খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই জাল বা বিভিন্ন ফাঁদের সাহায্যে মাছ শিকার করছেন।
রামগঞ্জ উপজেলা পশ্চিম বিঘার মৎস্য চাষিরা জানান, তাদের এলাকায় প্রায় ৩০০ পুকুর, মাছের ঘের, জলাশয় ভেসে কোটি টাকার মাছ বের হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। রামগঞ্জে সবকটি ঘেরের মাছ টানা বর্ষণে ভেসে গেছে। পুকুরে থাকা বড় এবং মাঝারি আকৃতির রুই, কাতলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উপজেলার হাজীগঞ্জ বিরেন্দ্র খালে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৎস্য চাষিরা।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নের মৎস্য চাষিরা জানান, তিনটি পুকুর ভেসে গেছে। এতে বেশিভাগ মাছ বের হয়ে যায়। ফলে ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন তারা।
মান্দারী ইউনিয়নের যাদৈয়া এলাকার বাসিন্দা নুর হোসেন জানান, তাদের এলাকার সবগুলো পুকুর ভেসে গেছে। পুকুরের মাছগুলো আশপাশের জলাশয় এবং খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়ছে। চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হলেও মৎস্য শিকারিরা বিভিন্ন উপায়ে মাছ শিকার করছেন।
সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সারোয়ার জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এগুলো সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হবে। তবে তাদের জন্য আপাতত প্রণোদনার কোনো প্রকল্প নেই।