বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সরেজমিন গিয়ে নদী পাড়ের কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন থেকে যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে অবাধে বালু বিক্রি করছেন রানু মেম্বার ও আবুল কালামসহ তার ভাই-ভাতিজারা। তবে সস্প্রতি নদীর বড়টেকের পাড় বেশি কাটছেন তারা। এতে পর্যটন স্পট শিমুল বাগানসহ বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। বড়টেকসহ নদীর পাড় কাটা বন্ধে উপজেলা প্রশাসনসহ পুলিশের জোরালো তেমন কোনো ভূমিকা দেখছেন না তারা।
.png)
তারা আরো বলেন, যাদুকাটা নদী ইজারাকৃত হলেও ইজারাদারদের বাধা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে নদীর পাড় কাটেন তারা।
তাহিরপুর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আজিজুর রহমান কাওসার বলেন, যাদুকাটা নদী তীরবর্তী ঘাগটিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা রানু মেম্বার, চাঁদ আলীর ছেলে আবুল কালাম, তার ভাই—ভাতিজা, গড়কাটি গ্রামের আশরাফ তালুকদার, ইউপি ওয়ার্ড সদস্য নোয়াজ আলী, তাহিরপুর থানার ওসি মাইনুদ্দিন ও এসআই হেলাল মিলে প্রতি রাতে নদীর পাড় কেটে কোটি কোটি টাকার বালু বিক্রি করে টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছেন।
বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, নদীর পাড় কাটার কারণে ঘাগটিয়া গ্রামসহ ২০টি গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে। তবে পাড় কাটা বন্ধ করতে হলে ঘাগটিয়া গ্রামবাসীকেই সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। না হয় যাদুকাটা নদী কিছুদিনের মধ্যেই সাগরে পরিণত হবে।
তাহিরপুর থানার ওসি এসএম মাইনুদ্দিন জানান, নদীর পাড় কাটার সঙ্গে তিনিসহ পুলিশ জড়িত নয়। নদীর পাড় কাটার দায়ে পক্ষে বিপক্ষে এরই মধ্যে থানায় মামলা হয়েছে। পাড় কাটার দায়ে প্রায় সময়েই অভিযান চালায় পুলিশ।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সালমা পারভীন বলেন, যাদুকাটা নদীটি ইজারাকৃত। নদীর পাড় কাটা বন্ধে উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রায় সময়েই অভিযান চালানো হচ্ছে। গত কয়েকদিন আগে দুটি বালুভর্তি স্টিলবডি নৌকা আটক করে নিয়মিত মামলা দেওয়া হয়েছে। নদীর পাড় কাটলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) যাদুকাটা নদীর পাড় রক্ষায় শহরের আলফাত স্কয়ারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাহিরপুর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার ব্যানারে মানববন্ধন পালিত হয়। মানববন্ধনে গ্রামের ভুক্তভোগীসহ শত শত ছাত্র জনতা বিক্ষোভ করে বিচার দাবি করে। নদীর পাড় কাটার অন্যতম হোতা ঘাগটিয়া গ্রামের বালু খেকো রানু মেম্বারকে গ্রেফতার এবং তাহিরপুর থানার ওসি মাইনুদ্দিন ও এসআই হেলালের দ্রুত অপসারণ চেয়ে স্লোগান দেয় ছাত্র-জনতা। পরে প্রধান উপদেষ্টাসহ সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেয় ছাত্র-জনতা।