ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

তীব্র গরমে নাকাল বৃদ্ধ-শিশুরা, হাসপাতালে ভিড়

সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৪৪, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
তীব্র গরমে নাকাল বৃদ্ধ-শিশুরা, হাসপাতালে ভিড়
তীব্র গরমে নাকাল বৃদ্ধ-শিশুরা, হাসপাতালে ভিড় -ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় গত কয়েক দিনের তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিপাকে পড়েছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। ডায়রিয়া, আমাশয়, জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভিড় করছেন হাসপাতালে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গড়ে প্রতিদিন হাজারের অধিক রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের বহির্বিভাগে ভিড় করছেন। যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। এত রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের।

কয়েক দিনের তীব্র গরমের কারণে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন লোকজন। যারা বেশি অসুস্থ তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবাসহ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে।যারা বেশি অসুস্থ তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে অনেক চিকিৎসককে ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা গেছে। চিকিৎসকদের রুমের সামনে বসে রয়েছেন অনেক রোগী। হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটি বেডেই ভর্তি রোগী রয়েছেন। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সব কটি বেডেই রোগী ভর্তি।

Advertisement

হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি উপজেলার চরটেকী গ্রামের মুখলেছ মিয়া বলেন, গত শনিবার থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছি। অবস্থা খারাপ হওয়ায় সোমবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ডাক্তার দেখাই। কর্তব্যরত চিকিৎসক ভর্তির পরামর্শ দেন। এখানে ভর্তি হওয়ার পর স্যালাইন পুশ করায় এবং ওষুধপত্র খাওয়ায় এখন কিছুটা সুস্থ। পুরোপুরি সুস্থ হলে বাড়ি ফিরে যাব।

ভর্তি থেকে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন শরীফ মিয়া নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানান, তার চার বছর বয়সী ছেলে গত ২-৩ দিন ধরে আমাশয়ে আক্রান্ত। সোমবার হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা করান। কিছুটা সুস্থ হওয়ায় ছেলেকে নিয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছেন।

বহির্বিভাগে ভর্তি রোগীউপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.নূর-এ-আলম খান বলেন, গত আগস্ট মাসে এ উপজেলায় প্রায় ২৬ হাজার মানুষ বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নেন। যা জেলার মধ্যে সর্বাধিক।

তিনি আরো বলেন, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে যেখানে ৩১ জন চিকিৎসক থাকার কথা, সেখানে রয়েছেন মাত্র ছয়জন। এত বিশাল সংখ্যক রোগীকে স্বাস্থ্য সেবা দিতে গিয়ে ওই ছয়জনকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি উধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

তীব্র তাপদাহের কারণে এই সময়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে হাসপাতালে কোনো ওষুধ সংকট নেই। পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুত রয়েছে। এই সময়ে সবাইকে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!