রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে ঘণ্টাব্যাপি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলসহ নবজাতকের মৃত্যুর সঙ্গে যারা দায়ী তাদের বিচার দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, শরীয়তপুর সদর উপজেলার তেঁতুলিয়া এলাকার আতিকা সুলতানা নামে এক প্রসূতি অসুস্থ হলে ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তাকে শরীয়তপুর স্পেশালাইজড হসপিটালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে নিয়ে যাওয়া হয়। এক ঘণ্টা পর আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেওয়া হবে শুনে প্রসূতির স্বামী বাবুল শিকদার এশার নামাজ পড়তে যান। স্বামীর অনুপস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রসূতিকে সিজার অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে সিজার অপারেশন করায়। প্রসূতির স্বামী নামাজ পড়ে এসে দেখেন মেয়ে শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। নবজাতক অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবার ঢাকা নিতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে তাদের আইসিইউ ও চিকিৎসক আছে। কিন্তু আইসিইউর অবস্থা ভালো না থাকায় বা চিকিৎসক না থাকায় রাত ২টার দিকে নবজাতকের অবস্থার অবনতি হয়। পরে কর্তৃপক্ষ বলে প্রসূতির অবস্থা খারাপ তাকে ঢাকা নিয়ে যান। পরে পরিবার নবজাতকে ঢাকার ‘বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে’ নিয়ে গেলে ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
.png)
নবজাতকের মামা সিমান্ত বলেন, শরীয়তপুর স্পেশালাইজড হসপিটাল কর্তৃপক্ষের প্রতারণা, অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে আমার ভাগনি মারা গেছেন। শিশুটি আমার বোনের প্রথম সন্তান। সন্তান জন্ম হলে প্রতিটি পরিবারের আনন্দ থাকে। আর ওই হসপিটাল কর্তৃপক্ষের কারণে আজ আমরা ভাগনিকে হারালাম। অনতি বিলম্বে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলসহ নবজাতকের মৃত্যুর সঙ্গে যারা দায়ী তাদের বিচার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে শরীয়তপুর স্পেশালাইজড হসপিটাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তাদের পাওয়া যায়নি।
শরীয়তপুর সিভিল সার্জন ডা. আবুল হাদি মোহাম্মদ শাহ পরান বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।