প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আওতায় ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৪’ প্রদানে জেলাপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক কমিটির সভাপতি, জেলা প্রশাসক সাবেত আলী ও সদস্য সচিব ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সমেশ চন্দ্র মজুমদার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
.png)
এদিকে জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হওয়ায় বিদ্যালয়ে ও এলাকায় চলছে আনন্দের জোয়ার।
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নিয়মাবর্তিতা, ডিজিটাল ক্লাসরুম, মানসম্মত ফলাফল, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের হার কমানো, আধুনিক সুবিধাসহ নানা বিষয়ে বিদ্যালয়টি শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
এছাড়াও খবর নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে ওই বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৫০ জন, প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৯টি ক্লাস রয়েছে। সর্বশেষ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন ও জিএসসিতে পাশের হার ছিল ৯৫.৪%, সর্বশেষ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ৫ জন বৃত্তি পায়। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় রয়েছে বিদ্যালয়টির অনেক কৃতিত্ব। গত ৫১তম শীতকালীন খেলায় জেলা পর্যায় রানারআপ হয় বিদ্যালয়ের বালিকা ক্রিকেট দল। দুদক কর্তৃক আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে হয় রানার্সআপ, সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।
এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবক ইউসুফ আলী বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান অনেক ভালো হওয়ায় আমরা এই বিদ্যালয়ে ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করেয়েছি। বিদ্যালয়টির লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলাসহ বিভিন্ন অর্জন রয়েছে। জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হওয়ায় আমরা অনেক আনন্দিত।
ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শাহিনা পারভীন বলেন, বিদ্যালয়ে যখন শিক্ষার্থীরা আসে তখন আমরাই বাবা-মা। শিক্ষকরা চেষ্টা করি ভালোবাসা দিয়ে পাঠদান করাতে। আমাদের বিদ্যালয়ের অভিভাবকরাও অনেক সচেতন। সবার প্রচেষ্টায় আমাদের এই অর্জন।
এ বিষয়ে বাংলাবান্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তালেব হোসেন নয়ন বলেন, বিদ্যালয়টিকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব শুধুমাত্র আমার একার নয়। এই কৃতিত্ব বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার। দেশের একেবারে শেষ প্রান্তের বিদ্যালয় এটি। শেষ প্রান্তে অবস্থান করেও আমরা চেষ্টা করেছি সেরাটুকু দেওয়ার। বিদ্যালয়ের এই অর্জন ও সুনাম যেন ধরে রাখতে পারি সে জন্য আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সমেশ চন্দ্র মজুমদার বলেন, বাংলাবান্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে যাচাই-বাছাই করে জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচিত করা হয়েছে। বিদ্যালয়টি তার কৃতিত্ব ও অর্জন আগামীতেও ধরে রাখবে এই প্রত্যাশা করি। কয়েকটি ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাও নির্বাচিত হয়েছেন।