ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
মাধবদী সিটি হাসপাতাল

ভুল চিকিৎসার দায়ে থানায় অভিযোগ, মৃত্যুঝুঁকিতে গৃহবধূ

নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:২২, ১০ অক্টোবর ২০২৪
ভুল চিকিৎসার দায়ে থানায় অভিযোগ, মৃত্যুঝুঁকিতে গৃহবধূ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নরসিংদী সদর উপজেলায় মাধবদী সিটি (প্রাঃ) হাসপাতালে যমজ সন্তানের অস্ত্রোপচার করিয়ে মৃত্যুঝুঁকিতে আছেন মাকসুদা বেগম নামে এক গৃহবধূ। এমন অভিযোগ এনে ভুল চিকিৎসার বিচার পেতে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন মাকসুদা বেগমের স্বামী নুরে আলম। কিন্তু বিচার না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান ভুক্তভোগীরা।

এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে মাধবদী সিটি হাসপাতালের চিত্র ধারণ করতে গেলে হাসপাতালের এক কর্মচারী মোস্তফা নামে একজন বাধা প্রদান করেন। এ সময় আরেক যুবক তেড়ে আসেন। পরে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, অভিযোগের তদন্তে আসা আলাউদ্দিন নামে মাধবদী থানা পুলিশের এক এসআই ও মাধবদী সিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলছেন। কিন্তু বক্তব্য না দিয়ে সংবাদকর্মী দেখে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল ত্যাগ করেন পুলিশ সদস্যরা।

বিচার না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান ভুক্তভোগী নুরে আলম। তিনি জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর ওই হাসপাতালে সিজার করা হয় তার স্ত্রীর মাকসুদার। তিনদিন পর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হঠাৎ রক্ত ভাঙা শুরু করলে আবার হাসপাতালে আসা হয়। পরে তারা ট্রিটমেন্ট করতে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। স্থানীয় একটি হাসপাতালে মাকসুদাকে দেখালে তিনি দ্রুত ঢকা মেডিকেলে নেয়ার জন্য বলেন। আমরা ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে ওইখানের চিকিৎসকরা বলেছেন, সিটি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার জন্য মাকসুদার দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পরে হাসপাতালে এসে জানালে তারা সিটি হাসপাতালের লোকেরা বলেন আমার স্ত্রীর সিজার করা হয় নাই। পরে আমি কোনো উপায় না দেখে মাধবদী থানায় অভিযোগ করেছি। কিন্তু অভিযোগ করেও কোনো সুফল পেলাম না।

Advertisement

নুরে আলমের সঙ্গে থাকা মিজান মিয়া নামে তার এক আত্মীয় বলেন, সম্পর্কে বোন হয় গৃহবধূ মাকসুদা বেগম। সিজারের মাধ্যমে যমজ সন্তান হয়েছে মাকসুদার। আজ সিটি হাসপাতালের ভুল চিকিৎসার জন্য বাঁচা-মরার পথে সে। আমরা বিচার পেতে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কিছু হলো না।

এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে হাসপাতালের চেয়ারম্যান তানিম হোসাইন বলেন, ওই নারীর সমস্যা নিয়ে নুরে আলম যা বলেছে তা ঠিক না। তার পেটে এক সিরিস পরিমাণ ব্লাড জমা বাধা ছিলো, এছাড়া ওই রোগীর লিভারেও সমস্যা ছিল। তিনি বলেন, মাধবদী সিটি হাসপাতালে সেবা ব্যাহত করতে এমন অভিযোগ এনে আমাদের হেনস্তা করা হয়।

উল্লেখ্য, সবশেষ মাধবদী সিটি (প্রাইভেট) হাসপাতালে চিকিৎসার অবহেলায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই লাখ ২০ হাজার টাকা রফাদফায় স্বজনদের লাশ বুঝিয়ে দেয়। নিহত সনিয়া আক্তার সদর উপজেলা মাধবদীর মহিষাশুড়া ইউপির বথুয়াদী গ্রামের মো. ইয়ামিনের স্ত্রী ছিল।

সংশ্লিষ্ঠদের কোনো তদারকি না থাকায় একের পর এক অভিযোগ হলেও মাধবদী সিটি (প্রাঃ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় কিছু কতিপয় ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে সেবার নামে রমরমা ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: নরসিংদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!