ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাঁচ কোটি টাকার টয়লেট নির্মাণে অনিয়ম

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:০৩, ১৭ অক্টোবর ২০২৪
পাঁচ কোটি টাকার টয়লেট নির্মাণে অনিয়ম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর প্রকল্পের আওতায় টয়লেট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ
  • ইট হাতে ধরলেই ঝরঝরে ভেঙে যায়
  • টয়লেট নির্মাণে নিম্নমান সামগ্রী ব্যবহার
  • সব দুই নম্বর ইট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর প্রকল্পের আওতায় টয়লেট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওইসব টয়লেট নির্মাণে যে উপকরণ ব্যবহারের কথা তার থেকে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। টয়লেট নির্মাণে নিম্নমান সামগ্রী দেওয়ায় অনেক জায়গাতে কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে ও খবর পাওয়া গেছে। 

উপকারভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিকবার কাজ বন্ধ করলেও এর কোনো সুরাহা হয়নি। 

উপজেলা জনস্বাস্থ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ৭০৫টি শৌচাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি টয়লেটের নির্মাণ ব্যয় ৭০ হাজার ৩০০ টাকা ধরে মোট প্রায় পাঁচ কোটি টাকা লাগবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে। এরই মধ্যে ১৫০টির মতো টয়লেট নির্মাণ শেষ হয়েছে। টয়লেটের পাশাপাশি একটি মোটর ও ৩০০ লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক এরমধ্যে থাকছে। 

Advertisement

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর এসব টয়লেট নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। একাধিক ঠিকাদারের মাধ্যমে এসব কাজ করানো হচ্ছে। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কোথাও ইট বালি আনা হচ্ছে, কোথাও চলছে নির্মাণ কাজ। ওইসব কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া চার ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থে (বাইরের অংশসহ) এসব টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছে। উচ্চতা সাড়ে ছয় ফুট। তবে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ কম হওয়ায় এটায় শৌচের কাজ সারতে সমস্যা হবে বলে অনেকে উল্লেখ করেছে। এ ছাড়া কম শক্তির মোটর দেওয়ার কারণে পানি ওঠাতেও তাদের সমস্যা হবে বলে অনেকে জানায়। 

পৌর শহরের তারাগন এলাকার সৈয়দ বেদন শাহ ক্ষোভ নিয়ে বলেন, যে ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে সব দুই নম্বর ইট। ইট হাতে ধরলেই ঝরঝরে ভেঙে যায়। তাছাড়া ৬০০ ইটের কাজ মাত্র দুই বা আড়াই বস্তা সিমেন্ট দিচ্ছে। সেই সঙ্গে থাকছে বিটবালু আর রড দিচ্ছে চিকন তারের মতো। কাজের মান খুবই খারাপ। কিছু বললে তারা শুনে না। 

বেদন মিয়া জানালেন, নতুন আরেকটি টয়লেট নির্মাণের জন্য পাশের একটি বাড়ির সামনে ইট রাখা হয়েছে, যা দেখলেই ধারণা পাওয়া যাবে। 

মো. মাহমুদ মিয়া বলেন, দু এক দিনের মধ্যে আমার টয়লেটের কাজ ধরা হবে। এরইমধ্যে ইট, বালু, রিং এসেছে। ইটের মান ভালো না। একটি ইট হাতে নিয়ে আরেকটিকে হালকা আঘাত করতেই ভেঙে টুকরা হয়ে যায়। ঠিকাদারকে একাধিক বার বলা হয়েছে মালামাল ভালো নয়। যেভাবে কাজ করার কথা সেইভাবে করেন। কিন্তু তারা কিছুই শুনছে না। 

একই এলাকার মো. রাব্বি খান বলেন, আমাদের বাড়িতে টয়লেট নির্মাণ কাজ হচ্ছে। এরইমধ্যে টয়লেটের ছাদ ডালাই কাজ শেষ হয়েছে। এসব কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। তাছাড়া বালুও ছিল খুব নিম্নমানের। যে পরিমাণ সিমেন্ট দেওয়ার কথা কিন্তু তারা তা দেয়নি। বাধ্য হয়ে নিজেরা সিমেন্ট কিনে তাদেরকে দিয়েছি। 

কথা হয় ৮০টি টয়লেট নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম সেন্টুর সঙ্গে। নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি আমাকে জনস্বাস্থ্য অফিস থেকে জানানো হয়েছে। তারা আমাকে অনেক জায়গার কাজ বন্ধ রাখতে বলেছেন। 

গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, টাকা পয়সার অভাবে ভালো একটি টয়লেট তৈরি করতে পারেনি। সরকার আমাকে বিনা মূল্যে একটি টয়লেট নির্মাণ করে দেওয়ায় আমি খুবই খুশি। কিন্তু এ কাজ করতে ঠিকাদাররা নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েছে। আমরা অনেকবার বলেছি কিন্তু তারা কথা শুনেনি। 

আখাউড়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানা বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের আওতায় পৌর এলাকায় ৭০৫টি টয়লেট নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। এরইমধ্যে ১৫০টির ওপর টয়লেট কাজ শেষ হয়েছে। এখানে টয়লেট নির্মাণে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। যেখানেই কাজের অনিয়মের খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখানে কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছে। 

তিনি আরো বলেন, নিয়মিত কাজের তদারকি করা হচ্ছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!