ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্কুলের সামনে ময়লার ভাগাড়, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

আশরাফ গোলাপ, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) 
প্রকাশিত: ১৫:১৮, ১৯ অক্টোবর ২০২৪
স্কুলের সামনে ময়লার ভাগাড়, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা
স্কুলের সামনে ময়লার ভাগাড়

নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌর শহরে অবস্থিত স্বনামধন্য সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিদিন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে হয় নাক চেপে। কারণ বিদ্যালয়টির সামনেই রয়েছে একটি ময়লার ভাগাড়, যেখান থেকে ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। এতে মশা-মাছির উপদ্রবসহ দূষিত হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ আশপাশের বাসিন্দারা। নিজেদের এমন ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। 

জানা গেছে ১৯৮৩ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টিতে এখন ১৩৫০ জন শিক্ষার্থী এবং ২৫ জন শিক্ষক কর্মচারী রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির সামনেই সড়ক ঘেঁষে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। দিন যত যাচ্ছে রাস্তার পাশের ময়লার ভাগাড় ততই বড় হচ্ছে। নষ্ট হওয়া শাকসবজি, হোটেলের পচা-বাসি খাবার, মুরগির নাড়িভুঁড়ি এবং বাসাবাড়ির ময়লাসহ সব ধরনের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এখানে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই এগুলো পচে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে। উৎকট গন্ধের কারণে ক্লাসরুমে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের জন্য। পাশাপাশি নাক চেপে পার হচ্ছে সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা পথচারীরাও। 

Advertisement

বিদ্যালয়টির ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী  রুদেসা ও রিমি বলেন, আমরা স্কুলে যতক্ষণ থাকি, ততক্ষণ দুর্গন্ধের মধ্যে কাটাতে হয়। এ রকম অবস্থা অনেক দিন থেকে চলছে। এই স্কুলে ক্লাস করা অনেক কষ্টকর। 

অভিভাবক জিয়াউল হক বলেন, দুর্গন্ধে থাকা যায় না। তারপরও জোর করে স্কুলে পাঠাই। এখানকার ভাগাড় সরিয়ে নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর আবেদন জানাচ্ছি। আমাদের বাচ্চাদের বাঁচান। এমন চলতে থাকলে বাচ্চারা বাঁচবে না।

পথচারী রেজাউল করিম বলেন, এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করলে দুর্গন্ধে বমি চলে আসে। এই ভাগাড়ের পাশে বিদ্যালয় ছাড়াও পৌর ভবন রয়েছে। তাই দ্রুত এখান থেকে ময়লার ভাগাড়টি অন্যত্র সরানো প্রয়োজন। 

বিদ্যালয়টির শিক্ষকরা বলছেন, পৌরসভায় বারবার অভিযোগ করার পরেও এখান থেকে ময়লার ভাগাড় সরানো হয়নি। আমাদের ক্লাস নিতে অনেক কষ্ট হয়। আমরা এ থেকে পরিত্রাণ চাই। 

কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অরুপ কুমার সরকার বলেন, দুর্গন্ধের কারণে শিশুর মানসিক ও শারীরিক ঝুঁকি রয়েছে। ময়লাতে মশা-মাছিসহ নানা ধরনের পোকামাকড় থাকে। মাছির কারণে শিশুদের পেটেরপীড়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে। 

সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বাঙ্গালী  বলেন, দুর্গন্ধের কারণে দরজা-জানালা বন্ধ করে ক্লাস নিতে হয়। তারপরও সম্ভব হয় না। এত দুর্গন্ধ! এভাবে চলতে থাকলে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে যাবে। আমি মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে বারবার বলার পরেও কোনো সুরাহা হয়নি। বিষয়টির দ্রুত সমাধান চাই।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দুয়া উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক দিলশাদ নাসিম প্লাবন বলেন, আমরা পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকের (ডিডিএলজি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব। আশা করি খুব দ্রুতই বিষয়টির সমাধান হবে।  

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, আপনার মাধ্যমে আমি এ ব্যাপারে জানতে পারলাম। শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য শিগগিরই আমি ব্যবস্থা নেব। বিভিন্ন ফেস্টুন,ব্যানার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে। স্কুলের আঙিনার আশপাশে কেউ যেন কোনো ধরনের ময়লা ফেলতে না হয় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
ট্যাগ: নেত্রকোণা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!