ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নৈশপ্রহরীকে ৩ দিন আটকে রেখে পিটিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:২০, ২০ অক্টোবর ২০২৪
নৈশপ্রহরীকে ৩ দিন আটকে রেখে পিটিয়ে হত্যা
নিহত নৈশপ্রহরী সিরাজুল ইসলাম -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অটো চুরির অভিযোগে নৈশপ্রহরীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে গ্যারেজ মালিক আক্তার ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনার ৩ দিন পর রোববার ভোরে নিহত নৈশপ্রহরী সিরাজুল ইসলাম (৬৫)-এর লাশ গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত নৈশপ্রহরী সিরাজুল মুছাপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে জহরপুর এলাকায় আক্তার হোসেনের মালিকানাধীন অটোরিকশা গ্যারেজে চুরির ঘটনা ঘটে।  তার পর থেকে আক্তার ও তার লোকজন নৈশপ্রহরী সিরাজকে গ্যারেজে আটকে রেখে নির্যাতন চালালে রোববার ভোরে তার মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকাবাসী ও পরিবারের অভিযোগ।

Advertisement

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার মুছাপুর ইউপির জহরপুর এলাকার আক্তার হোসেনের মালিকানাধীন অটোরিকশা গ্যারেজে নৈশপ্রহরী হিসেবে কাজ করতেন পার্শ্ববর্তী মুছাপুর গ্রামের বৃদ্ধ সিরাজুল ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার রাতে কৌশলে গ্যারেজ থেকে ৬টি অটো চুরি করে নিয়ে যায় একটি সংঘবদ্ধ চোরের দল। এ ঘটনার জেরে সিরাজুলকে গত ৩ দিন যাবত গ্যারেজে আটকে রেখে নির্যাতন চালায় গ্যারেজের মালিক আক্তার, তার ছেলে অর্ণব, মহিন, রাজু ও ৬ অটোচালক। নির্যাতনের পর শনিবার রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ খবর পেয়ে রোববার সকালে কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

নিহতের ছেলে ইউসুফ ও মেয়ে শিল্পী জানান, চুরির ঘটনার পর শুক্রবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও গ্যারেজ মালিক আক্তার ও মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঞ্জু মেম্বার বিচারের কথা বলে বাবাকে আটকে রাখে। পরে নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। শনিবার রাত আড়াইটার দিকে বাবা আমাদের সঙ্গে কথা বলবে বলে আক্তার বাড়িতে খবর পাঠায়। পরে উপস্থিত হয়ে দেখি বাবার লাশ গ্যারেজের ভেতরে পড়ে আছে। পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার কারণে আমার বাবাকে তারা পিটিয়ে মেরে ফেলল। আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।

কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সাব্বির রহমান বলেন, নৈশপ্রহরী বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!