লোহাগড়ায় প্রধান শিক্ষিকাকে নির্মমভাবে হত্যা, থানায় মামলা
নড়াইলের লোহাগড়ায় সবিতা রানী মন্ডল (৫৭) নামে একজন প্রধান শিক্ষিকাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। সোমবার (২১ অক্টোবর) রাতে নিহতের স্বামী পরিতোষ কুমার মন্ডল বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতনামা দুই-তিনকে আসামি করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লোহাগড়া থানার ওসি মো. আশিকুর রহমান।
এর আগে, রোববার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের চরদৌলতপুর গ্রামের প্রধান শিক্ষক সবিতা রানী মন্ডলকে হাত-পা বেঁধে, গলায় গামছা পেঁচিয়ে ও মুখের ভেতর কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। নিহত সবিতা রানী মন্ডল ওই গ্রামের পরিতোষ কুমার মন্ডলের স্ত্রী। তিনি চরদৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে খাবার খেয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজন আলাদা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। পূজার জন্য তার স্বামী রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলতে গেলে বাইরে থেকে বন্ধ পান। তখন তিনি স্ত্রীর মোবাইলে কল দিলে ফোন বন্ধ পান। পরে তার ভাইপোর স্ত্রী সঞ্চিতা রানীকে ফোন দিয়ে দরজা খুলে দিতে বলেন। তখন তার বৌদি অনিমা রাণী পুতুল ও কাকিমা অর্পনা বিশ্বাস এসে দরজা খুলে দেন। পরে ঘরে প্রবেশ করে দেখি আমার স্ত্রীর হাত-পা বাঁধা, গলায় গামছা পেঁচানো ও মুখের ভেতর কাপড় দেওয়া অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে। এ সময় চিৎকার দিলে স্বজনরা ছুটে আসেন এবং ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পান। ঘরের পূর্ব পাশ দিয়ে দুর্বৃত্তরা সিং কেটে (মাটি খুঁড়ে) ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রীকে হত্যা করে। এ সময় স্ত্রীর কাছে থাকা স্বর্ণের একটি বড় চেইন, দুটি হাতের বালা, একটি আংটি, এক জোড়া কানের দুলসহ একটি ল্যাপটপ চুরি করে নিয়ে যায়।
নিহতের স্বামী পরিতোষ কুমার মন্ডল বলেন, আমার স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের দাবি জানান।
লোহাগড়া থানার ওসি মো. আশিকুর রহমান বলেন, নিহত সবিতা রানী মন্ডলকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় তার স্বামী পরিতোষ কুমার মন্ডল বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় মামলা করেছেন। এখনো কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।