ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রাত পোহালেই খুলছে কালুরঘাট সেতু

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:০২, ২৬ অক্টোবর ২০২৪
রাত পোহালেই খুলছে কালুরঘাট সেতু
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময়ের অপেক্ষার অবসান ঘটছে যাচ্ছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের। সংস্কার কাজের জন্য দীর্ঘ এ সময় বন্ধ থাকার পর রোববার (২৭ অক্টোবর) থেকে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে কালুরঘাট সেতু।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সেতু প্রকৌশলী জিসান দত্ত বলেন, ৯০ বছরের পুরোনো সেতুটি সংস্কার করে যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল গাড়ি চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। রোববার সকাল থেকে যান চলাচলের জন্য এটি খুলে দেওয়া হবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট জরাজীর্ণ এ সেতুর সংস্কারকাজ শুরু হয়। প্রায় ১৪ মাস সংস্কারকাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। সংস্কারকাজ শুরুর তিন মাসের মধ্যেই সেতুটি ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়। এরপর ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

Advertisement

গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে সেতুটির সংস্কার কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন রেল সচিব আবদুল বাকী। সে সময় তিনি বলেছিলেন, সংস্কার শেষ হলেই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। ধারণা করছি অল্পকিছু দিনের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।

সেতুর সংস্কারকাজ শুরুর দিন থেকে পাশে যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে ফেরি চালু করা হয়। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উদ্যোগে ফেরি চালু হয়। তবে শুরুর দিনই জোয়ারের পানিতে বেইলি সেতু ডুবে যায়। সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল ফেরিও।

এছাড়া নদী পার হতে ফেরির অপেক্ষায় থাকতে হয় পথচারী ও যাত্রীদের। শুষ্ক মৌসুমে কোনোরকমে চলাচল করা গেলেও বর্ষায় দুর্ভোগ বাড়ে। তখন অমাবস্যা-পূর্ণিমার সময় ভরা জোয়ারে তলিয়ে যায় ফেরিতে উঠার বেইলি সেতু। কোমরসমান পানি ডিঙিয়ে যেতে হয় ফেরিতে। কখনো কখনো ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ হয়ে যায় ফেরি চলাচল। তখন নদী পারাপারে নির্ভর করতে হয় নৌকার ওপর। প্রবল স্রোতের কারণে সে যাত্রা হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ। ফেরি ও নৌকা করে নদী পার হতে পদে পদে ভোগান্তি। আবার জীবনও থাকে ঝুঁকিতে। ঘটেছে প্রাণহানির ঘটনাও। ফলে সব মিলিয়ে সেতুতে যান চলাচল শুরুর অপেক্ষায় ছিলেন দুই পাড়ের বাসিন্দারা।  

স্থানীয়ভাবে ‘কালুরঘাটের পোল’ নামে পরিচিত এ কালুরঘাট সেতু কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত হয় ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে। যেটির বয়স এখন প্রায় ৯৫ বছর। ১৯৫৮ সাল থেকে এ সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেনের পাশাপাশি চলাচল করে যানবাহন। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণের পর কালুরঘাট সেতুর বিকল্প হিসেবে নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কিন্তু নানা জটিলতায় নতুন সেতু নির্মাণকাজ বিলম্বিত হওয়ায় বিদ্যমান সেতুটি সংস্কারের মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা করছে রেলওয়ে। প্রায় ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বুয়েট প্রকৌশলীদের পরামর্শে এটি সংস্কার করা হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: চট্টগ্রাম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!