ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাহাড় কেটে বহুতল ভবন, মাটি যাচ্ছে ভাটা-প্লট ভরাটে

কক্সবাজার প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১২:৫২, ২৮ অক্টোবর ২০২৪
পাহাড় কেটে বহুতল ভবন, মাটি যাচ্ছে ভাটা-প্লট ভরাটে
ছবি: সংগৃহীত

পাহাড় কেটে একের পর এক নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন। পাহাড় কাটা ও ভবন নির্মাণের জন্য নেয়া হয়নি স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের কোনো অনুমতি। সংঘবদ্ধ পাহাড় খেকোরা প্রশাসনের নজর এড়াতে সন্ধ্যা থেকে রাতভর পাহাড়ের মাটি কেটে ডাম্পার গাড়িতে করে পাচার করে। এসব মাটি ইটভাটায় ইট তৈরিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ, জমি ও পুকুর ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড়ের এসব মাটি। ফলে একদিকে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা ও অপরদিকে চরম হুমকির মুখে পড়েছে এ পাহাড়। এই চিত্র কক্সবাজারের রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি পাহাড়ের। 

স্থারীয়রা জানান, অবৈধ জায়গার মধ্যে পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় একটি  চক্র পাহাড় নিধন করছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বিচারে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এতে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা যায়, রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের তুলাবাগান, স্কুলেরপাহাড় মারিয়ার দীঘি, কম্বনিয়া, জামবাগান, মিজ্জি আলীর দোকান, দক্ষিণ মিঠাছড়ির, সাদরপাড়া, চাইন্দা, কাটিরমাথা, বনতলা, পানেরছড়ার বলিপাড়া, লম্বাঘোনা, শিয়াপাড়া, ঘোনার পাড়া, হুয়ারিঘোনা, মরিচ্চাঘোনা, চাইল্যাতলী, মগেরঘোনা, জোয়ারিনার নুনাছড়ি, উত্তর মিড়াছড়ি, নন্দাখালী মুরাপাড়া, কারিগরি কলেজের পশ্চিম ও পূর্বপাশের এলাকা, রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিছনের এলাকা, কাউয়াখোপ ইউনিয়নের উখিয়ার ঘেনা, রাজারকুল ইউনিয়নের পন্জেখানা, কাঁঠালিয়ামুরাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটা হচ্ছে। উঁচুনিচু এসব পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের রাস্তা সংকীর্ণ হলেও পাহাড় কেটে সেখানে ট্রাক, মিনি ট্রাক চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। দিনরাত পাহাড় কেটে ডাম্পারে করে নিয়ে ভরাট কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাহাড় কেটে পরিবেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া এই চক্রটি সংঘবদ্ধ। পাহাড় কাটা শুরু করলে প্রশাসনের আশেপাশে ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্পটে তাদের লোকজন পাহারায় থাকেন। তাই প্রশাসন অভিযানে বের হলেই তারা সটকে পড়েন। যার কারণে অভিযান করেও এসব পাহাড় খেকোদের সহজে শাস্তির আওতায় আনা যাচ্ছে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় এই চক্রটি পাহাড় নিধন করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। আবার প্রশাসনের একটি পক্ষের সঙ্গে এই পাহাড় খেকোর যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় ওমর মিয়ার তিন ছেলে সিদ্দিক আলম, জুহুর আলম ও মনির আলম ১০০ ফুট উঁচু পাহাড় কেটে ডাম্পার গাড়িতে করে মাটি পাচার করেন। দিনরাত শ্রমিক দিয়ে পাহাড়টির অধিকাংশ মাটি কেটে পাচার করেছে। এসব মাটি ইটভাটায় ইট তৈরিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ, জমি ও পুকুর ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড়ের এসব মাটি।  

ওমর মিয়ার ছেলে জুহুর আলম পাহাড় কেটে যে জায়গা খালি হয় সেই স্থানে অনুমোদনহীন বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারি জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ অব্যাহত রাখায় স্থানীয় সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। 

লিংকরোড বিট কাম স্টেশনের বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান শুভন বলেন, আমরা পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শন করে পাহাড় কাটা ও পাকা দালান নির্মাণের সত্যতা পেয়েছি। পাহাড় কাটায় জড়িতদের আর যেন পাহাড় না কাটে তাদের নিষেধ করেছি। এবং পাকা দালান নির্মাণ হলেও তা এখন নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এতকিছুর পর মামলা করতে রাজি নন এই কর্মকর্তা।

রামু উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল বলেন, পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজারের উপ-পরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!