ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফাটল, দুর্ভোগে বাসিন্দারা

আলমগীর হোসেন, বগুড়া
প্রকাশিত: ১৬:১৮, ২৯ অক্টোবর ২০২৪
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফাটল, দুর্ভোগে বাসিন্দারা
বগুড়ার সাতবেকীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফাটল, বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নের সাতবেকীতে মাত্র ৪ বছর আগে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬১টি ঘর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমনকি কিছু কিছু ঘরে ফাটল ধরেছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে যাওয়ার রাস্তা নেই। সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে থাকে। দুর্ভোগে পড়েছেন ওখানকার বাসিন্দারা।

২০২০ সালে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বগুড়ার সোনাতলায় ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত হয় ৬১টি ঘর। মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীনদের জন্য ওই এলাকায় প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে খাস জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণ করতে সরকারের ব্যয় হয় প্রায় দুই লাখ ৩৭ হাজার টাকা।

ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬১টি ঘরের মধ্যে ১০-১২টি ঘরে লোকজন বসবাস করলেও অন্যরা থাকেন অন্যত্র। দীর্ঘদিন যাবত ওই ঘরগুলোতে লোকজন বসবাস না করায় বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ-সংযোগ। এছাড়াও পুরো আশ্রয়ণ প্রকল্পে ভূতুরে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisement

অপরদিকে, প্রায় দেড় যুগ আগে জোট সরকারের শাসনামলে সাতবেকী গুচ্ছগ্রামে ১২০টি টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন সেই ঘরগুলো মেরামত কিংবা সংস্কার না করায় ঘরের চালের টিন ফুটো হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে পানি পড়ে ওই গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারীদের ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও তা কেউ আমলে নেননি। ফলে নিম্নমানের কাজ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তৎকালীন উপজেলা প্রশাসনের তদারকিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ও স্থানীয় পাকুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ যৌথভাবে ঘরগুলো নির্মাণ করে।

জেলার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নের সাতবেকী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা বলেন, এখানে বসবাসকারীদের ন্যূনতম কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই, নেই যোগাযোগ ব্যবস্থা। এমনকি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বিদ্যুৎ-সংযোগ। সন্ধ্যার পর ভূতুরে পরিবেশের তৈরি হয়। আশ্রয়ণ প্রকল্প জঙ্গলে পরিণত হয়েছে, সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে। নানা সমস্যায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বীকৃতি প্রামাণিক বলেন, ঘরগুলো নির্মাণে কেউ গাফিলতি বা অনিয়ম করলে দ্রুত তদন্ত কমিটি করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ ঘর সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!