ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ভাই হারিয়ে বোনদের কান্না যেন থামছেই না

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:২৭, ৩ নভেম্বর ২০২৪
ভাই হারিয়ে বোনদের কান্না যেন থামছেই না
নিজামের মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারি -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত বাংলাদেশি যুবক নিজাম উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার খাড়েরা মধ্যপাড়া গ্রামে চলছে মাতম। একমাত্র ভাইকে হারিয়ে বোনদের কান্না যেন থামছেই না। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। এই হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহতের লাশ দ্রুত দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের স্বজনেরা জানান, পরিবারের একটু সচ্ছলতার আশায় ২০১২ সালে ধার-দেনা করে নিজাম উদ্দিনকে লেবাননে পাঠায় পরিবারের সদস্যরা। সেখানে তিনি নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন। আগামী মাসে দেশের মাটিতে ফিরে আসার কথা ছিল তার। তবে গতকাল রাতে তার এক বন্ধুর মাধ্যমে মৃত্যুর খবরটি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শুরু হয় মাতম। পরিবারে মা-বাবা হারা এতিম নিজামের বোনেরাই ছিলেন আপনজন। তিন বোনের মধ্যে এক বোন প্রয়াত হয়েছেন আরো আগেই। ভাইহারা বাকি দুই বোনের গগন বিদারী কান্না যেন থামছেই না।

কান্নাজনিত কণ্ঠে নিহতের বোন জাহেরা বেগম বলেন, আমার ভাইকে আমি ঋণ করে টাকা এনে বিদেশ পাঠিয়েছি। গত ১২ বছর ধরে সে দেশে আসে না। অবৈধভাবে থাকার কারণে গত পাঁচ বছর আগে মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়েও দেশে আসতে পারেনি। ধার-দেনা করে যাওয়া ঋণ এখনো পরিশোধ করতে পারিনি। গতকাল বিদেশ থেকে ফোন দিয়ে বলছে, আমার ভাই মারা গেছে। সেই খবর পাওয়ার পর আমাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। তিনি বর্বরোচিত ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ভাইয়ের লাশ দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

Advertisement

নিহতের আরেক বোন পারুল আক্তার বলেন, আমার আদরের ছোট ভাই ছিল সে। গতকাল তার এক বন্ধু ফোন দিয়ে খবর দিয়েছে যে, আমার ভাই ইসরায়েলের বোমা হামলায় নিহত হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। আমার ভাইয়ের লাশ যেন সরকার দ্রুত আমাদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে সে দাবি করি।

এদিকে এলাকাবাসীও এ হামলার নিন্দা জানিয়ে লাশ দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আশিক আহমেদ জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতার সাক্ষী হলো আমাদের কসবার খাড়েরা গ্রাম। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। পাশাপাশি নিজাম উদ্দিনের মরদেহ রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুল ইসলাম জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও পরিবারটির সার্বিক খোঁজখবর রাখছেন। আমরাও পরিবারটি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।

কসবার ইউএনও মুহাম্মদ শাহরিয়ার মোক্তার জান‍ান, এরমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। বৈরুতের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই নিজামের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

উল্লেখ্য, শনিবার বৈরুতের হাজমিয়ে এলাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বিমান হামলায় ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় নিজামের। খাড়েরা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন নিজাম উদ্দিন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!