ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্যাক্টরি বন্ধ ঘোষণা: শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:২৮, ১৮ নভেম্বর ২০২৪
অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্যাক্টরি বন্ধ ঘোষণা: শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
শ্রমিকদের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ। ছবি: সংগৃহীত

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুরের দক্ষিণ পানিশাইলে অবস্থিত ডরিন গ্রুপের ফ্যাক্টরিগুলো। এদিকে প্রতিদিনের মতো শ্রমিকরা কাজের জন্য ফ্যাক্টরির সামনে উপস্থিত হলে বন্ধের নোটিশ দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো আগাম নোটিশ দেয়নি। নোটিশে উল্লেখিত শ্রম আইন অনুসারে বন্ধ ঘোষণা করা হলেও শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কোনো সমাধান দেওয়া হয়নি। এই অবস্থায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে এবং তারা সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন।

Advertisement

অবরোধের ফলে মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতি দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হলে এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যা দূরবর্তী স্থান থেকেও প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়তে থাকে।

শ্রমিক প্রণব ও শেফালি জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট বেতন ও সুবিধাদি ঠিকমতো পাচ্ছেন না। ফ্যাক্টরি বন্ধ ঘোষণার পর তাদের চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। তাদের দাবি, বন্ধ ঘোষণার আগে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

তারা আরো বলেন, আমরা কারখানার শ্রমিকরা, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করে আসছি। নাইট বিল, হাজিরা বোনাসসহ আমাদের বিভিন্ন ন্যায্য দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করি। আমাদের এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবিগুলো মেনে নেয়।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে পরবর্তীতে আমাদের কারখানার পাঁচ সহকর্মীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। তাদের মুক্তির জন্য আমরা পুনরায় আন্দোলন শুরু করি। অবশেষে তাদের মুচলেকা নিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে এরপরও কিছু সহকর্মীকে অন্যায়ভাবে ছাঁটাই করা হয়। ছাঁটাই হওয়া সহকর্মীদের পূর্ণবহালের দাবিতে আবারও আমরা আন্দোলনে নামি। এর প্রতিশোধ হিসেবে কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ করে দেয়। আমাদের এই ন্যায্য আন্দোলন কেবল আমাদের শ্রমের সঠিক মূল্য এবং অধিকার নিশ্চিত করার জন্য।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে কাশিমপুর থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে

ডরিন গ্রুপের কর্তৃপক্ষ জানায়, বাণিজ্যিক সংকট ও আর্থিক সমস্যার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!