ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

লোহাগড়ায় লেপ-তোশক তৈরির ধুম

এস.এম জহুরুল হক মিলু , লোহাগড়া (নড়াইল) 
প্রকাশিত: ১৩:৩৮, ১৮ নভেম্বর ২০২৪
লোহাগড়ায় লেপ-তোশক তৈরির ধুম
তোশক তৈরি করছেন কারিগর। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় শীতের আগমনীতে ধুম পড়েছে লেপ-তোশক তৈরির। এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন লেপ-তোশকের কারিগররা। এরই মধ্যে কিছুটা শীত পড়ে গেছে। কিছুদিন পরেই জেঁকে বসবে শীত। 

এবার শীতের আমেজ আগেই টের পাওয়ায় লেপ-তোশকের দোকানে ভিড় করেছেন মানুষ। তুলা, লেপের কাপড় ফোম এবং মজুরী গত বছরের তুলনায় এবার বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। লোহাগড়া বাজারের দোকানগুলোতে লেপ-তোশকের এসব দোকানে দিন দিন বেড়েই চলছে ক্রেতাদের ভিড়। লোহাগড়া বাজারের লেপ-তোশক তৈরির প্রতিটি দোকানে এখন ১৫-২০টি লেপ-তোশক তৈরি হচ্ছে। এদিকে শীতবস্ত্র বিক্রির দোকানেও ভিড় ও কেনাকাটা জমে উঠতে শুরু করেছে।

লোহাগড়া বাজার আজিবর বেডিং স্টোরের সত্বাধিকারী মো. আজিবর চৌধুরী বলেন, ৩০ থেকে ৩৫ বছর লেপ-তোশক তৈরি ও বিক্রি করে আসছি। লেপ-তোশক তৈরি করে আজ আমি স্বাবলম্বী। দুই ছেলে চার মেয়ের পড়ালেখার খরচ মিটিয়ে সংসারের হাল ধরে আছি এ ব্যবসা থেকেই। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছি আর ছেলেরা পড়ালেখা করছে। ইচ্ছে করলেই এ ব্যবসাকে ছেড়ে দিতে পারিনি। প্রায় শত বছরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হাল ধরে রেখেছি। বর্তমানে আমার প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন কারিগর রয়েছেন। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি লেপ তৈরি হয়ে থাকে। ৪-৫ হাত মাপের তৈরি লেপ ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।

Advertisement

গ্রাম-বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, আশ্বিন মাস এলেই শীতের কারণে মানুষের গা শিরশির করে। কিন্তু কার্তিক মাসের শেষ ভাগ থেকে সকাল হলেই ঘন কুয়াশা আর শীতের আমেজ দেখা যাচ্ছে। সূর্য ওঠার ঘণ্টা দুয়ের পরেই আবার বদলে যাচ্ছে প্রকৃতির রূপ। সন্ধ্যা নামার পরপরই প্রায় সারারাত মাঝারি শীতের কারণে বাসাবাড়িতে শীত নিবারণের জন্য লেপ ও কাঁথা ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে বেশিরভাগ মানুষ শীত নিবারণে সাধারণত নির্ভর করেন লেপ-তোশকের ওপর।

লেপ-তোশক তৈরির কারিগর জুয়েল মিয়া বলেন, আমি ১০ বছর ধরে লেপ-তোশকের কারিগর হিসেবে কাজ করে আসছি। এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে মন চায় না। বাবার সূত্রেই আমি ১০ বছর ধরে এ পেশায় জড়িত।

লেপ-তোশক কিনতে আসা লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের মরিচ পাশা গ্রামের মো. সেকেন্দার মোল্যা বলেন, শীত পড়তে শুরু করেছে। বেশি শীত পড়ার আগেই নতুন লেপ-তোশক তৈরি করতে এসেছি। কিন্তু তুলা, কাপড় ও কারিগরের মজুরি বেশি হওয়ায় দুটার জায়গায় একটা বানিয়ে নিলাম।

উপজেলার চাচই গ্রামের অটোভ্যান চালক মো. সাহাবুল আলম বলেন, শীত এসে পড়েছে, তাই বাজারে এসেছি লেপ-তোশক বানাতে। গতবারের তুলনা দাম একটু বেশি হলেও শীতের কারণে বাধ্য হয়ে লেপ-তোশক বানাতে হচ্ছে। 

কারিগর মুজিবর বলেন, শীত আসার আগেই মানুষ লেপ-তোশক বানাতে শুরু করে দিয়েছে। আমরাও ব্যস্ত সময় পার করছি। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসা আরো বৃদ্ধি পাবে। মনে হয় এবছর আয় রোজগার ভালোই হবে। তবে জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় মানুষ তাদের ইচ্ছমতো লেপ-তোশক বানাতে পারছেন না। 

আরেক কারিগর কালন মোল্যা বলেন, রাত ১০-১১টা পর্যন্ত আমরা কাজ করেছি। একটা সময়ে হাড় কাঁপানো শীতেও লেপ তোশকের দোকানে ভিড় লক্ষণীয় ছিল। আগের তুলনায় এখন বেচা-বিক্রি অনেক কমে গেছে। তবে শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই লেপ তৈরির ধুম পড়বে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!