শহরের বিভিন্ন লেপ তোশকের ব্যবসায়ী ও কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত আশ্বিন মাস থেকেই লেপ-তোশক বানানোর মৌসুম শুরু হয়। একটানা চলে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত। কয়েক প্রকারের লেপ তৈরি করা হয়। বাজারে ছোট বা সিঙ্গেল লেপের আকার তিন হাত চওড়া, পাঁচ হাত লম্বা। আর বড় লেপের আকার পাঁচ চওড়া, লম্বা ছয় হাত। বাজারে মাঝারি আকারের লেপের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এই লেপ সাধারণ পাঁচ হাত লম্বা ও চার হাত চওড়া হয়ে থাকে।
তুলার মান অনুযায়ী মাঝারি আকারের একটি লেপ এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিঙ্গেল লেপ বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকায়। আর বড় আকারের লেপের দাম এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত।
.png)
আর তুলার মান অনুযায়ী ছয় ফুট চওড়া ও সাত ফুট লম্বা আকারের তোশক বিক্রি হয়ে থাকে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায়। একটি শিমুল তুলার বালিশ বিক্রি হয় ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। একটি জাজিমের দাম মান ভেদে আড়াই থেকে চার হাজার টাকায়। জাজিম সাধারণত গার্মেন্টস তুলা দিয়ে তৈরি করা হয়।
রাজবাড়ী বাজারে সাধারণত কয়েক ধরনের তুলা পাওয়া যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে দামি শিমুল তুলা। ৩শ’ পঞ্চাশ টাকা কেজি।
শহরের বড় বাজার ও রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ইংলিশ সুপার মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা দোকানে লেপ, তোশক, বালিশ, কোলবালিশ, লেপের কাভার, বালিশের কাভারসহ নানা রকম পণ্য সাজিয়ে রেখেছেন। কোনো কোনো দোকানে হাতের তৈরি জিনিসের পাশাপাশি পারটেক্সের পণ্য সংগ্রহে রেখেছেন। কারিগররা নতুন লেপ সেলাই করছেন। কেউ ব্যস্ত পুরোনো লেপ খোলা নিয়ে। কেউ তুলা মেশিনে ধোনাই করছেন। আর ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম মেটাচ্ছেন।

বড় বাজারের লেপ-তোশক ব্যবসায়ী মো. আব্দুর রহিম বলেন, আমাদের এ ব্যবসার বয়স প্রায় ৬০ বছর। এটা আমার বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আগে আমার বাবা ব্যবসাটি দেখভাল করতেন। এখন আমি করছি। আগে বাজারে হাতে গোনা কয়েকটি দোকান ছিল। এখন বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট বাজারেও লেপ-তোশকের দোকান হয়েছে। এছাড়া বাজারে এখন বিভিন্ন কোম্পানির তৈরি বিছানার ফোম, কমর্ফোট লেপ, বিদেশ থেকে আমদানি করা কম্বল, বালিশ, পারটেক্স জাতীয় তোশকসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। মানুষের এখন মেশিনের তৈরি এসবের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। তারপরও বিক্রি আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে বিগত বছরের তুলনায় কম।
রাজবাড়ীর ইংলিশ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের সারা বছর তেমন বেচাকেনা হয় না। শীত পড়া শুরু করলে বেচাকেনা বাড়ে। তিন মাস আমাদের ব্যবসা ভালো চলে। এখন ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে।
লেপ বানানোর কারিগর রাব্বানী হোসেন বলেন, আমরা দুইজন একসঙ্গে কাজ করি। সারা বছর তেমন কাজ থাকে না। এখন কাজের চাপ বেড়েছে। প্রতিদিন চার-পাঁচটা করে লেপ সেলাই করছি। এতে গড়ে ৭শ’ টাকা আয় হচ্ছে।
লেপ কিনতে আসা রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা এলাকার বাসিন্দা মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, আমার বাড়িতে লেপ আছে। সেটা অনেক পুরাতন। এজন্য নতুন দুইটি লেপ বানাতে দিয়েছিলাম। আজ নিতে এসেছি। এটা সবচেয়ে বড় আকারের লেপ। দুইটি লেপ বানাতে খরচ হয়েছে তিন হাজার ৮০০ টাকা।
রাজবাড়ী বাজার কারিগর সমিতির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এ পেশায় যারা নিয়োজিত রয়েছেন তাদের সারা বছর কাজ থাকে না। অনেকে অন্য পেশায় চলে যান। শীত আসলে আবার এ পেশায় চলে আসেন। এখন কাজ বেড়েছে। ফাল্গুন মাস পর্যন্ত এরকম কাজ থাকবে।