আর এ কারণেই বগুড়ার সোনাতলায় লেপ-তোশক কারিগরদের দোকানে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক ভিড়। যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। সোনাতলা সদরের মেইন রোডের সামনে দেখা যায় দুইজন কারিগর লেপ বানাতে ব্যস্ত।
লেপ সেলাইয়ের ফাঁকে ফাঁকে কথা হয় তাদের সঙ্গে। তাদের একজনের নাম জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (৬০), আরেকজন আক্কাস আলী (৪০)। তারা জানান, এলাকায় এখনো পুরোপুরি শীত শুরু হয়নি। এরপরও লেপ বানাতে ক্রেতাদের ভিড় রয়েছে। দিনে ছয় থেকে সাতটি লেপের অর্ডার আসছে। সঙ্গে তোশক জাজিম তো রয়েছেই।
.png)
জাহিদুল ইসলাম জানান, পাঁচ ফুট বাই পাঁচ ফুট সাইজের একটি লেপ বানাতে তাদের সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। তারা লেপপ্রতি মজুরি হিসেবে দুইশ’ থেকে চারশ’ টাকা নিয়ে থাকেন।

সোনাতলা উপজেলার মাইক্রো স্ট্যান্ড সংলগ্ন সবুজ গদি ঘরের সত্ত্বাধিকারী সবুজ সরকার বলেন, এ বছর কাপড়ের দাম গজপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তুলার দামও কিছুটা বেড়েছে। তাই লেপের দাম এক হাজার ১০০ থেকে দেড় হাজার টাকা, তোশক দেড় থেকে দুই হাজার টাকা এবং জাজিমের দাম চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। এদিকে লেপের খোল ৬০০ টাকায় এবং বালিশ-কোলবালিশ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা জোড়ায় বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার নামাজখালী গ্রামের মহিরন বেগম (৬০) এসেছেন লেপ বানাতে। তিনি বলেন, শীত কিছুটা পড়েছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই পুরোপুরি পড়তে পারে। মেয়ের বাড়িতে পাঠাবো, তাই লেপ বানাতে এসেছি।
অন্যদিকে কানুপুর গ্রামের সাত্তার মন্ডল (৬৫) এসেছেন পুরাতন লেপ মেরামত করতে। তিনি বলেন, শেষ রাতের দিকে শীত লাগে। তাই পুরাতন লেপটাই ঠিক করতে এনেছি।
বছরের সাত থেকে আট মাস কারিগরদের কাজ কম থাকে। তবে এখন থেকে প্রায় তিন মাস তাদের ব্যস্ততা বাড়বে বলে জানান লেপ ব্যবসায়ীরা।