ভেড়ামারা পৌর এলাকাসহ ৭টি ইউপির বিভিন্ন হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় লেপ-তোশক তৈরির কারিগররা এখন হাঁক-ডাক করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শুধু লেপ-তোশক তৈরিই নয়, শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদ ও ব্যবহার্য সামগ্রীতেও পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। পাতলা পোশাকের পরিবর্তে অনেকেই মোটা জামার দিকে ঝুঁকছেন। তাই এখন কদর বাড়তে শুরু করেছে গরম পোশাকেরও।
এ ছাড়া শীতের সময় কাঁথা, কম্বল, চাঁদর বা শাল, শীতের টুপি, হাতমোজা, মাফলার, জাজিম ও কার্পেটের ব্যবহার ও বিক্রি বেড়ে যায়। ছয় ঋতুর এই দেশে শীতের আগমনী বার্তা শীতকালে হওয়ার কথা থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তা এখন ঋতুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে না।
.png)
গ্রাম-বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, আশ্বিন মাস এলেই শীতের কারণে মানুষের গা শিরশির করে। কিন্তু এখন কার্তিক মাসের শেষ ভাগে সকাল হলেই ঘন কুয়াশা আর শীতের আমেজ দেখা যাচ্ছে।
সূর্য উঠার ঘণ্টা দুই পাড়েই আবার বদলে যাচ্ছে প্রকৃতির এমন রূপ। তখন রোদের তাপে শীতের কুয়াশা দূর হয়ে গরমে ঘাম ঝরছে ভেড়ামারা এলাকার মানুষের। সন্ধ্যা নামার পরপরই প্রায় সারারাত মাঝারি শীতের কারণে বাসা-বাড়িতে শীত নিবারণের জন্য পাতলা কাঁথা ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে বেশিরভাগ মানুষই শীত নিবারণে সাধারণত নির্ভর করেন লেপ-তোশকের ওপর।
লেপ তোশক বানানোর কারিগর সাজেদুল, করিম মোল্লা ও সাবলু জানান, সাইজ অনুযায়ী ও প্রকার ভেদে এবার লেপ তোশক বানাতে খরচ পড়ছে এক হাজার ৫শ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। মজুরি, তুলাসহ লেপ তোশক বানানোর কাজে ব্যবহৃত জিনিস পত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় লেপ তোশকের দাম গড়ে ৫শ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান। সেন্টু বেডিং স্টোরের মালিক ও রেল লাইন পট্টি বাজারে গার্মেন্টস ঝুট দিয়ে তৈরি সিঙ্গেল তোশক ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং ডবল তোষক সাইজ অনুযায়ী এক হাজার ৫শ থেকে এক হাজার ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
গত বছর শিমুল তুলা ছিল ৪শ টাকা কেজি, এবার বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৭শ টাকা। গার্মেন্টস ঝুট গত বছর ২৫-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এবার ৮০-৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তোশক বিক্রেতা রমজান আলী। অন্যান্য তুলাও কেজি প্রতি ৬০-৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।
প্রতিবছরের মতো এবারো এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। শীতকে সামনে রেখে এরই মধ্যে ভেড়ামারার বিভিন্ন মার্কেট এলাকা ও গলির মোড়ে গড়ে ওঠা লেপ-তোশকের দোকানগুলোতে বাড়ছে ক্রেতার আনাগোনা। লেপ-তোশকের দোকানের প্রায় সবকটিতেই ছিল অর্ডার দিতে আসা ক্রেতাদের ভিড়। দোকানিরাও অর্ডার গ্রহণ এবং বিভিন্ন রঙ ও মানের কাপড় ও তুলা দেখাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। একই র্দশ্য চোখে পড়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে।