ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঘুষ-দুর্নীতি মামলায় ডিআইজি সুব্রত কুমার কারাগারে

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৪১, ২০ নভেম্বর ২০২৪
ঘুষ-দুর্নীতি মামলায় ডিআইজি সুব্রত কুমার কারাগারে
ডিআইজি সুব্রত কুমার হালদার -ফাইল ফটো

পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে মাদারীপুর জেলার সাবেক এসপি ও বর্তমান ডিআইজি সুব্রত কুমার হালদারকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। বুধবার দুপুরে সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক নুর মোহাম্মদ আবু শাহরিয়ার কবির এই আদেশ দেন।

সুব্রত হালদার বর্তমানে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত ছিলেন।

জানা গেছে, সুব্রত কুমার হালদার ২০১৯ সালে মাদারীপুরে পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকাকালে কনস্টেবল পদে নিয়োগে দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। নিয়োগ প্রার্থীদের পরীক্ষায় বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করে অতিরিক্ত নম্বর প্রদান এবং ১৭ প্রার্থীর কাছ থেকে এক কোটি ৬৯ লাখ টাকা ঘুষ নেন। দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম এই ঘটনায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।বুধবার দুপুরে এই মামলায় জামিনের আবেদন করলে আদালত তাকে জামিন না দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

Advertisement

গত বছরের ৫ জুলাই সুব্রত কুমার হালদারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক। তদন্ত শেষে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

দুদক সূত্র জানায়, সুব্রত কুমার হালদার বাদে অন্য আসামিরা হলেন- মাদারীপুর পুলিশ লাইন্সের বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল মো. নুরুজ্জামান সুমন ও জাহিদুল ইসলাম, মাদারীপুর জেলা পুলিশ হাসপাতালের সাবেক মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট পিয়াস বালা ও মাদারীপুরের সাবেক টিএসআই (শহর উপপরিদর্শক) গোলাম রহমান।

দুদকের পিপি আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাষ্টপক্ষ ন্যায় বিচার পেয়েছে। ডিআইজি সুব্রত হালদারকে আদালত জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আমরা তার তীব্র আপত্তি জানাই। পরে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন। সুব্রত কুমারের বিরুদ্ধে দুদক স্পষ্টভাবে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে এবং অভিযোগপত্র দাখিলও করেছে। তিনি প্রকাশ্যে ঘুষ নিয়ে অপরাধ করেছেন। তাই রাষ্ট্র তৎপর হয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে। রাষ্ট্র ও দুদক ন্যায় বিচার পেয়েছে।

মাদারীপুরের দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান বলেন, তদন্তকালে জব্দ করা ৩২টি লিখিত পরীক্ষার খাতা ও আনুষঙ্গিক রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে অনিয়মের চিহ্ন এবং অতিমূল্যায়নের প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি যাদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন, তাদের খাতায় সাংকেতিক চিহ্ন দেওয়া ছিল এবং এসব প্রার্থীর খাতায় অতিরিক্ত নম্বর প্রদান করেন তিনি। এসব অপরাধমূলক কাজের জন্য আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
ট্যাগ: মাদারীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!