এর আগে, গত ১১ নভেম্বর রাতে উপজেলার বেজোড়া হিন্দুপাড়ায় এ হামলা হয়েছিল। নিহত রেজাউল ইসলাম রনি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চকলোকমান দক্ষিণপাড়ার মৃত আবদুল হামিদ আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রনির সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বেজোড়া হিন্দুপাড়ার বাদশা মিয়ার ছেলে আকরাম হোসেন ও রানা মিয়া, শহিদুল ইসলামের ছেলে মারফি, মৃত সজল দাসের ছেলে সজীব দাস, শুকুর আলীর ছেলে সুজন আলী, আবদুর রশিদের ছেলে সুমন, বাবলু দাসের ছেলে মঙ্গল দাস, মৃত সুরেশের ছেলে সীমান্ত, আবদুল করিমের ছেলে শাকিল ও কিনু মণ্ডলের ছেলে সজিবের বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
.png)
গত ১১ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে তার বন্ধু জমি কেনাবেচা ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মোটরসাইকেলে উপজেলার বেজোড়া হিন্দুপাড়ায় জমির বায়না করতে যান রনি। পথে হিন্দুপাড়া বটতলায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের পথরোধ করে। তারা রনি ও নজরুলকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে বটতলায় নিয়ে যায়।
একপর্যায়ে তাদের মারধর এবং রনির মাথা ও পিঠে ছুরিকঘাত করে পালিয়ে যায়। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এসে রনিকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে রনির অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার বেলা ১২টার দিকে তিনি (রনি) মারা যান। এ ঘটনায় রনির মা শাজাহানপুর থানায় অভিযোগ দেন।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে রনির মৃত্যুর খবর প্রচার হলে অভিযুক্ত হামলাকারীদের মধ্যে রানা, সজীব দাস, সুমন, সজিবের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা বলছেন, রনিকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকায় বিক্ষুব্ধরা তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, হত্যা মামলা দুর্বল করতে হত্যায় জড়িতরা নিজেদের বাড়িতে নিজেরাই আগুন দিয়েছে।
শাজাহানপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাসুদ করিম জানান, কেউ বলছে উত্তেজিত জনগণ হত্যায় জড়িতদের বাড়িতে আগুন দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বলছে, অভিযুক্তরা নিজেরাই নিজেদের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত চলছে। হত্যা ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।