ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মীরসরাই হানাদারমুক্ত দিবস আজ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:২৫, ৮ ডিসেম্বর ২০২৪
মীরসরাই হানাদারমুক্ত দিবস আজ
ছবি: সংগৃহীত

মীরসরাই হানাদারমুক্ত দিবস আজ রোববার। ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের মীরসরাই অঞ্চল শত্রুমুক্ত হয়েছিল। ওইদিন মীরসরাইয়ের মুক্তিকামী জনতা পাক-বাহিনী ও তাদের দোসরদের হটিয়ে মীরসরাইকে শত্রুমুক্ত করেছিলেন।

দীর্ঘদিন চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে দিবসটি অত্যন্ত তাৎপর্যের সঙ্গে পালন করা হলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে এ বছর দিবসটি উদযাপনে নেয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর সকাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা জাফর উদ্দিন আহম্মদের বিএলএফ গ্রুপের মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় দুইশ মুক্তিযোদ্ধা মীরসরাই সদরের পূর্ব দিক ছাড়া বাকি তিন দিক ঘিরে ফেলে। বেলা প্রায় ১১টার দিকে মুক্তিযোদ্ধারা তিন দিক থেকে সংগঠিত হয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শুরু করে। শুরু হয় পাক সেনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের গুলি বিনিময়। পাক সেনাদের অবস্থান ছিল মীরসরাই হাই স্কুল, মীরসরাই থানা, মীরসরাই সি.ও. অফিস। 

Advertisement

বৃষ্টির মতো গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে পাক সেনারা পলিয়ে যায়। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধারা থানায় প্রবেশ করে পাক সেনাদের আটটি রাইফেল উদ্ধার করে। পাক সেনারা চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে গেছে বলে পরে জানা যায়। চট্টগ্রামের কোন অঞ্চল তখনও মুক্তির স্বাদ পায়নি। মীরসরাই শত্রুমুক্ত হয়েছে-এ কথা বাতাসে দ্রুত ছড়িয়ে যায় মীরসরাইয়ের সর্বত্র। মুহূর্তেই চারদিক থেকে জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত মিছিল আসতে থাকে। হাজারো জনতার ঢল নামে মীরসরাই হাই স্কুল মাঠে। মৌলভী শেখ আহম্মদ কবির কোরআন তেলাওয়াত করেন। পরে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা জাফর উদ্দিন আহাম্মদ চৌধুরীসহ সবাই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ঘোষণা করা হয় মীরসরাই ভূ-খণ্ড পাক বাহিনীমুক্ত একটি স্বাধীন এলাকা। সে থেকে ৮ ডিসেম্বর মীরসরাইয়ে উদযাপিত হয়ে আসছে হানাদারমুক্ত দিবস।

মীরসরাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসিম বলেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে এ বছর কোনো আয়োজন করা হয়নি। তাছাড়া এই দিনটি আঞ্চলিকভাবে পালন করা হতো।

মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহফুজা জেরিন জানান, এটি কোনো জাতীয় দিবস না। স্থানীয় ইতিহাসের একটি অংশ। প্রতি বছর এখানকার মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের প্রজন্মের উদ্যোগে দিবসটি উদযাপন করা হতো। উপজেলা প্রশাসন সবসময় সহযোগিতা করতো। এবছর মুক্তিযোদ্ধা অথবা তাদের প্রজন্মের কেউ যোগাযোগ করেনি। তারা যদি করতে চায় তাহলে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
ট্যাগ: চট্টগ্রাম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!