ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাহাড়ে কনকনে শীত 

মো. আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি) 
প্রকাশিত: ১২:০৮, ১২ ডিসেম্বর ২০২৪
পাহাড়ে কনকনে শীত 
ঘন কুয়াশায় ঢাকা চারদিক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঘন কুয়াশায় ঢাকা চারদিক। পথঘাট আর ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দু জমে এক টুকরো আলোতে জ্বল জ্বল করছে। সকালে কোনো কৃষাণী শীতের পিঠা বানাতে চুলায় আগুন দিতে গিয়ে ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসছে। কুয়াশা আর ধোঁয়ায় মিলে চারপাশ হয়ে উঠেছে ধোঁয়াশা। এদিকে গ্রামের কৃষকের গরুটি যাতে শীতে কাবু না হয় সেজন্য তার গায়ে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পুরোনো কাপড় বা ছালার বস্তা। গ্রামের পরিবেশেই এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। বলছিলাম পর্যটন নগরী পাহাড়ি কন্যা খ্যাত খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার কথা। 

প্রচন্ড শীতে জবুথবু এ এলাকার মানুষ। বিকেল থেকেই কুয়াশায় ঢেকে যায় পাহাড়ের আঁকাবাঁকা মাঠঘাট, মেঠোপথ। রাতভর টুপটাপ শব্দে ঝরছে কুয়াশা। কুয়াশা কেটে দেরিতে উঁকি দিচ্ছে সকালের সূর্য। কথিত আছে, অতি গাছপালায় নাকি শীত থাকে বেশি। তাই হয়তো গ্রামে শীত অনুভূত হয় বেশি। এদিকে চরম শীতেও বসে নেই কৃষকরা। কৃষকের কষ্টার্জিত সোনালি ধান কেটে ঘরে তোলার প্রক্রিয়াও প্রায় শেষের দিকে। গত বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠে এ বছরেও ভালো ফলন হয়েছে। 

এদিকে ধান কাটার পরপরই গ্রামবাংলায় শুরু হয়েছে নবান্ন উৎসব। বিলুপ্তপ্রায় খেজুরের মিষ্টি রসের পিন্নি, নবান্নের নতুন চালের পিঠা খেতে খেতে আড্ডা দেওয়া এ যেন গ্রামবাংলার চিরাচরিত প্রথা।

Advertisement

মাটিরাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক আব্দুল হামিদ বলেন, শীত আমার প্রিয় ঋতু। গত কয়েকদিন ধরে এই স্থানে খুব কুয়াশা এবং তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। শীতকালটা অল্প সময়ের জন্য আমরা সেটা বেশ ভালো করেই উপভোগ করি। শীতকালীন বিভিন্ন শাক সবজি, বাহারি রকমের পিঠা পুলি পাহাড়ে বসবাসরত জনসাধারণের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। 

মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিল্টন চাকমা বলেন, তীব্র শীতে সর্দি-কাশি, জ্বর, মাথা, গলা ব্যথা, হাঁচি, অ্যাজমা, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে, তাই এসব রোগে সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই। একইঙ্গে শিশু ও বয়স্কদের গরম কাপড় পরিধান করতে হবে। শরীরে শক্তি জোগায় এমন খাবার খেতে হবে। আর যেকোনো জটিলতা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সবুজ আলী বলেন, মাটিরাঙ্গায় কুয়াশা এবং তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। চলতি মাসের শেষের দিকে ঠান্ডার প্রকোপ আরো তীব্রতর হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!