শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে তীব্র যানজট লেগে যায়। এ সময় শহরের বাসটার্মিনাল থেকে কলাতলী ডলফিন মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে দীর্ঘ যানজট লেগেই থাকে। অফিস বা কাজে বের হলেও অনেক সময় নিয়ে বাসা থেকে বের হতে হয়। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এর কারণে যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও নানা অনিয়মের কারণে যানজট লেগে থাকে। এই যানজট থেকে উত্তরণের উপায় বের করা জরুরি।
.png)
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক রায়হাতুল গীর কসবা জানান, প্রতিদিন এ সড়কে তীব্র যানজট লেগেই থাকে। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার যানজটের তীব্রতা বেড়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকা পড়ে নষ্ট হয় কর্মঘণ্টা।
বেসরকারি চাকরিজীবী আতাউল্লাহ খালেদ বলেন, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি তিনমাস বাসটার্মিনাল থেকে কলাতলী ডলফিন মোড় পর্যন্ত তীব্র যানজট থাকে। বিশেষ করে সকালে যানজটের তীব্রতা বেড়ে যায়। যার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয় পর্যটক ও সাধারণ মানুষের।
দীর্ঘক্ষণ জ্যামে বন্দী থাকার পর অনেকে বাধ্য হয়ে জেল গেইট থেকে হেঁটে কলাতলী পর্যন্ত চলে যায়।
শিক্ষার্থী সাদেক মাহমুদ সিমরান বলেন, সকালে জ্যামে বন্দী ছিলাম প্রায় ১ ঘণ্টা। সকাল ৯টায় ক্লাস থাকায় বাসা থেকে ১ ঘণ্টা আগে বের হয়েও ক্লাসটা মিস হয়ে গেল। এই রোডে প্রতিদিন তীব্র যানজট লেগেই থাকে। যানজট নিরসনে কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নেই।
ট্রাফিক পুলিশ কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এখন গাড়ির চাপ বেশি তাই কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ গাড়ি ইউটার্ন করার জায়গাটি প্রশস্ত করার কথা ছিল। তারা কাজটি করলে ভোগান্তি একটু কম হত।
সরাসরি কলাতলী ও ডলফিন মোড়ে গাড়ি প্রবেশের প্রশ্নে তিনি জানান, ওবিটি এ্যাপসের মাধ্যমে পর্যটকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রিজার্ভ ট্যুরিস্ট বাস শহরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। তাদের অনুমতি দেওয়া না হলে জ্যাম লিংকরোড় পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীম আরো জানান, আজ থেকে চার বছর আগেও বাসটার্মিনাল সচল ছিল। কিন্তু নানা কারণে সেটি এখন নিস্ক্রিয় হয়ে গেছে। বাসটার্মিনাল পুরোপুরিভাবে সচল করা গেলে যানজট কমে আসবে বলে জানান তিনি।