কমলা বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন ভালুকার যুবক শহিদ আহাম্মেদও। তিনি উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের আখালিয়া গ্রামে কমলার চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। বিদেশে গিয়ে আর্থিকভাবে সফলতা না পেলেও দেশে ফিরে কমলার চাষ করে তিনিও ঘুরিয়েছেন ভাগ্যের চাকা।
সরেজমিনে দুই কমলার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, একেকটি গাছে প্রচুর পরিমাণ কমলা ধরেছে। অনেক গাছের ডাল কমলার ভারে মাটির দিকে নুয়ে পড়েছে। বাগানে মনোযোগ দিয়ে পরিচর্যার কাজ করছেন শ্রমিকরা। তাদেরকে নানা দিকনির্দেশনা দিয়ে কাজ করাচ্ছেন স্বপ্নবাজ ওই দুই যুবক। স্থানীয় লোকজন কমলা খেতে এবং কিনতে আসছেন। পাইকাররাও বিভিন্ন বাজারে নিয়ে বিক্রির উদ্দেশে বাগান থেকে কিনে নিচ্ছেন টাটকা কমলা।
.png)
দুই উপজেলার স্থানীয় লোকজন জানান, কয়েক বছর আগেও মাহফুজ ও শহিদ আহাম্মেদকে তাদের এলাকার অনেকেই চিনতো না। কিন্তু কমলা চাষের পর থেকেই ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন তারা। এখন তাদের সবাই চেনে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে। তাদের দেখাদেখি আরও অনেকে কমলা চাষে ঝুঁকছেন। তাদেরও কমলা চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন দুই যুবক। পাশাপাশি কমলা চাষে সফল হওয়ার নানা পরামর্শও দিচ্ছেন।
লংগাই গ্রামের বাসিন্দা হযরত আলী বলেন, মাহফুজ নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে সফল হয়েছে। তিনি দিনের বেশিরভাগ সময় বাগানে সময় দেন। স্থানীয় লোকজন বাগানে গেলে বিনামূল্যে কমলা খেতে দেন। অনেকে বিনামূল্যে কয়েকটি করে কমলা নিয়ে যান। তার সফলতায় আমরা খুশি।
মাহফুজের বাগানের শ্রমিক জহিরুল ইসলাম বলেন, দূর-দূরান্তে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছি। কিন্তু চার বছর আগে বাড়ির কাছে কমলা বাগান হওয়ায় মাহফুজের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি শ্রমিক হিসেবে কাজ দিয়েছেন। বাড়ির কাছে কাজ করে যা মজুরি পাই, তা দিয়েই সংসার চলে।
আখালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সারোয়ার হোসেন বলেন, টাকা রোজগার করে জীবনের মোড় ঘুরাবে এমন আশায় বিদেশ গিয়েছিলেন শহিদ। কিন্তু তাতে আরো ক্ষতিগ্রস্ত হন ওই যুবক। পরে দেশে ফিরে কমলা চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ায় লাভবান হন। এখন তিনি আয় করছেন লাখ লাখ টাকা।
শহিদের কমলা বাগানে পরিচর্যার কাজ করেন ইদ্রিস। তিনি জানান, বাগান পরিচর্যাসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন তিনি। এই বাগানে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না। জৈবিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় কমলাগুলো ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত। খেতেও বেশ সুস্বাদু। এজন্য ভালো দামে সহজেই বিক্রি করা যাচ্ছে।
কথা হয় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের লংগাই গ্রামের সফল কমলাচাষী মাহফুজের সঙ্গে। তিনি বলেন, ইউটিউবে দেখেছি অনেকেই কমলা চাষে লাভবান হচ্ছে। তাই নিজেও সাহস করে চার বছর আগে ৪০ শতাংশ জমিতে ৯৭টি কমলার চারা রোপণ করে বাগান করেছি। গত বছর কিছু ফলন হয়। তবে এবার প্রায় ৭০ মণ কমলা ধরেছে। অনেক কমলা এরমধ্যে পেকে গেছে। এগুলো ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার কমলা বিক্রির আশা করছি।
ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের আখালিয়া গ্রামে কমলাচাষি শহিদ আহাম্মেদ বলেন, আমিও ইউটিউব দেখে দেড় একর জমিতে চায়না জাতের ২৩০টি ও দার্জিলিং জাতের ৭০টি চারা লাগিয়ে কমলার বাগান করেছি। বাগানে প্রায় ২০০ মণ কমলা ধরেছে। এরমধ্যে কয়েক লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেছি। সব মিলিয়ে ১২ লাখ টাকার কমলা বিক্রির আশা করছি। পাশাপাশি কলম পদ্ধতিতে কমলার চারাও বিক্রি করছি। এতেও ভালো লাভ হবে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ময়মনসিংহের উপপরিচালক ড. নাছরিন আক্তার বানু বলেন, চলতি বছর জেলায় ১৯ হেক্টর জমিতে কমলার আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে ঈশ্বরগঞ্জে এক হেক্টর জমিতে ও ভালুকায় ১০ হেক্টর জমিতে কমলার আবাদ হয়েছে। মাহফুজ ও শহিদ কমলা চাষ করে লাভবান হচ্ছে। তাদেরকে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা নানা দিক নির্দেশনাসহ পরামর্শ দিচ্ছে। অন্যদেরকেও কমলা চাষে আগ্রহী করা হচ্ছে। কারণ, সারাদেশে বাণিজ্যিকভাবে এই ফলের চাষাবাদ বাড়িয়ে উৎপাদন বাড়াতে পারলে বিদেশ থেকে কমলা আমদানির পরিবর্তে রফতানি করা সম্ভব।