নিহতরা হলেন- আমেনা বেগম (৪৫), ইমি (২২), নিহা (১০), আয়াজ (২), রেশমা আক্তার (২৫), আব্দুলাহ (৭)। আহত ১০ জনের মধ্যে ৭ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- প্রাইভেটকারের মালিক নূর আলম (৩০), চালক হাবিবুর রহমান (৩২), নূর আলমের স্ত্রী অনামিকা (২৫), নাজিয়া (১৭) ও মোটরসাইকেল আরোহী মো. সুমন (৩০)।
আহতদের স্যার সলিমুল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কেউ কেউ আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন।
.png)
প্রাইভেটকারের মালিক আহত নূর আলমের বড় ভাই নূর আহমেদ জানান, সকালে তার ছোট ভাই নূর আলম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকার জুরাইন এলাকা থেকে গোপালগঞ্জে তাদের এক আত্মীয়ের মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। এ সময় তারা ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় টোল দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বরিশালগামী বেপারী পরিবহনের একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস তাদেরকে সজোরে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এ ঘটনায় তার ভাইয়ের শাশুড়ি আমেনা বেগম, ভাইয়ের শ্যালিকা ইমি, নিহা, ভাইয়ের ছেলে আয়াজ নিহত হয়। এ সময় আহত হয় তার ভাইয়ের স্ত্রী অনামিকা, তার ভাই নূর আলম, চালক হাবিবুর রহমান এবং তাদের এক আত্মীয়া নাজিয়া।
আহত মোটরসাইকেল আরোহী সুমনের ভাই মালেক জানান, তার ভাই সুমন স্ত্রী রেশমা আক্তার, ছেলে আব্দুল্লাহকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে তার শ্যালিকার বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ফরিদপুর যাচ্ছিলেন। সুমন টোল প্লাজায় টোল দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিল। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা বেপারী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি তাদের সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই ছেলে আব্দুল্লাহ নিহত হয়। আহত অবস্থায় রেশমা আক্তার ও সুমনকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রেশমা আক্তার সেখানে মারা যায়। সুমনের বাড়ি রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিলে।
স্থানীয়রা জানান, বাসটি অতিরিক্ত গতিতে ছিল, যা নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রধান কারণ হতে পারে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
হাসারা হাইওয়ে থানার সাব-ইন্সপেক্টর আব্দুর রহমান জানান, বেপরোয়া গতিতে বেপারী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি বরিশালের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি টোল প্লাজায় দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য গাড়ির ওপর উঠে পড়ে। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে।