উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৪৭৮ হেক্টর জমিতে এ বছর সরিষার চাষ হয়েছে। গত বছর ১০৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছিল। গত বছরের চেয়ে এ বছর ৪২৮ হেক্টর জমিতে বেশি সরিষা চাষ করা হয়েছে। গত বছর ১০৫০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত বারী-১৪,১৫,১৭, বিনা-৯, টরি-৭ জাতের সরিষা চাষ হয়েছিল। এগুলো থেকে হেক্টরপ্রতি ১ দশমিক ২ টন ফলন হয়েছিল। তবে এ বছর ১৪৭৮ হেক্টর জমিতে বারী সরিষা-১৪,১৫,১৭ বিনা-৯, টরি-৭ জাতের বীজ বপন করা হয়েছে। যেখানে হেক্টরপ্রতি ১ দশমিক ৩ টন ফলন হবে বলে আশা করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
কৃষি অফিস সূত্রে আরো জানা যায়, নভেম্বর মাসের শুরু কিংবা মাঝামাঝি সময়ে সরিষার চাষ শুরু হয়। ফল পেতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। এখন মাঝামাঝি সময়। ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা দিনদিন সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। উঁচু জমি সরিষা চাষের জন্য উপযুক্ত। প্রথমে হালকাভাবে চাষাবাদ করে সরিষার বীজ বপন করতে হয়। এরপরে দু-এক বার সামান্য ওষুধ ও কীটনাশক দিলেই সহজে ফলন ভালো হয়। তুলনামূলক কম পরিশ্রমে অধিক লাভ হওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকরা দিনদিন সরিষা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
.png)
সরেজমিনে সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় পাশের ক্ষেতজুড়ে থাকা সরিষার ফুলের সমাহার অনেকের দৃষ্টি কাড়ে। অনেককে সরিষা ক্ষেতের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে দেখা যায়। উপজেলার চিরাং, গন্ডা, মোজাফরপুর এবং পাইকুড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন সরেজমিন ঘুরে আরো দেখা যায়, আমন ধান কাটার পর সরিষার বীজ বপন করেছন অনেকেই। তবে কোথাও কোথাও সরিষার বীজ বপনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে জমিগুলো, কোথাও আবার সরিষার চারা ৫-১০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়ে পড়েছে।
উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের চারিতলা গ্রামের কৃষক রাসেল মিল্কী বলেন, ‘আমি ১ একর জমিতে সরিষার চাষ করেছি। ক্ষেতে ফুল ফুটেছে। আশা করছি ফলন ভালো হবে। পাশাপাশি বর্তমান বাজার দর ঠিক থাকলে প্রতি বিঘায় ১৫-২০ হাজার টাকা লাভ হবে। সরিষার ক্ষেতকে জাত পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে।
উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের চাষি হাবিবুর রহমান জানান, এ বছর ৪ বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়ে ছিলাম। সেই ধান কেটে সরিষা বীজ বুনে দেওয়া হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় ৫/৬ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি সরিষা পাওয়া শস্য হয় পাঁচ-ছয় মণ। তাতে খরচ বাদ দিলে ৮/১০ হাজার টাকার মতো লাভ হয়। আশা করছি, ধানের মতো সরিষা থেকেও ভালো ফলন পাব।
এছাড়া উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের সরিষা চাষি মানিক মিয়া বলেন, আমি এ বছর ১ বিঘা জমিতে সরিষার বীজ বপন করেছি। গত বছর সরিষার মণ ছিল ২৮০০ টাকা, এবার তার থেকে বেশি হলে লাভবান হবো। আর আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে তাহলে সরিষা থেকে মোটামুটি একটি ভালো অর্থ পাব। লাভও হবে বেশি যা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ জোগাতে পারব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন দিলদার বলেন, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে এবং ফল ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরমধ্যে সরিষার ক্ষেতে ফুল ফুটেছে। এ বছর ১ হাজার কৃষককে সরিষা বীজ প্রণোদনা এবং ২ হাজার ৪০০ কৃষককে পুর্নবাসন করা হয়েছে। প্রতিটা আবাদে কৃষকদের ভালো ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সার, বীজ, কৃষি যন্ত্রপাতিসহ প্রতিনিয়ত নানাবিধ পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও কৃষি প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে। ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় পরিবারের তেলের চাহিদা মেটাতে সরিষা চাষে ঝুঁকছেন অনেক কৃষক।