ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দেখা নেই সূর্যের, শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৪, ২ জানুয়ারি ২০২৫
দেখা নেই সূর্যের, শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল
ঘন কুয়াশায় ঢাকা পঞ্চগড়। ছবি: সংগৃহীত

ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডায় জেঁকে বসেছে শীত। তীব্র শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চলের মানুষ। দুদিন ধরে দেখা মিলছে না সূর্যের। ফলে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। নতুন বছর ২০২৫ সালের প্রথম দিন থেকে উত্তরাঞ্চলের কমেছে তাপমাত্রা। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

পঞ্চগড় : দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে পাহাড়ি হিমেল বাতাস আর কুয়াশায় জেঁকে বসেছে শীত। হাড় কাঁপানো কনকনে ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত জনজীবন। জানুয়ারির দ্বিতীয় দিনেও বৈরী এই আবহাওয়া সীমাহীন জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ৮ থেকে ১১ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে তাপমাত্রা। দিনের বেশিরভাগ সময় কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে আকাশ। এর মধ্যে শুরু হওয়া শীতল বাতাসে জবুথবু জনজীবন।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ৯৯ শতাংশ রেকর্ড হলেও এর গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার। এর আগে, বুধবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা পরিমাণ ছিল ১০০ শতাংশ

Advertisement

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলাটি হিমালয়ের কাছে হওয়ায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় বেশ ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সামনের দিনে তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। চলতি সপ্তাহে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে থাকবে একাধিক মৃদু শৈত্য প্রবাহ।

দিনাজপুর : কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় কাবু দিনাজপুরের মানুষ। নতুন বছরের প্রথম দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দিনাজপুরে। গতকাল সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া সকাল ৬টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ, গড় গতিবেগ ঘণ্টায়  ৪ কিলোমিটার। দুই দিন সূর্যের দেখা না মিললেও গতকাল কিছু সময়ের জন্য সূর্য দেখা যায়। তবে ঠান্ডা বাতাসের কারণে উষ্ণতা হারিয়ে যায়। 

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, চারদিন ধরে দেখা মিলছে না সূর্যের। সেইসঙ্গে হিমেল হাওয়া। জেলায় বেশ ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯২% এবং গত ২৪ ঘণ্টায় বাতাসের গড় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার।

নওগাঁ : কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসের দাপটে নওগাঁয় আবারও থমকে দাঁড়িয়েছে জনজীবন। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম। এতে নিদারুণ কষ্টে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় নওগাঁয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ।

নওগাঁ বদলগাছী কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে, গতকাল তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকালের চেয়ে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। হিমেল বাতাসের কারণেই কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, গত দুই দিন থেকে আবারো বেড়েছে শীতের দাপট। সকালে কুয়াশা কমলেও বেড়েছে ঠান্ডার দাপট। তাপমাত্রা কমার চেয়েও বেশি অসুবিধা হচ্ছে হিমশীতল বাতাসে। দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের দেখা থাকলেও হিমেল বাতাসে দিনভর অনুভূত হয় হাড় কাঁপানো শীত। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। এদিকে গত কয়েকদিন থেকেই শীতের তীব্রতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার রাস্তাঘাটে শ্রমজীবী মানুষের দেখা মিললেও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম ছিল।

লালমনিরহাট : ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় জবুথবু হয়ে পড়েছে লালমনিরহাটের জনপদ। জেঁকে বসেছে শীত। বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। গত তিনদিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। ফলে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

শীতের দাপটে গ্রামাঞ্চলের অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন বাইরে বের হচ্ছে না। ঘন কুয়াশার কারণে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, একমাস ধরে এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। চলতি মাসে দিনের তাপমাত্রা আরো কমে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রংপুর : উত্তর জনপদে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। ঘন কুয়াশা আর হিম বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। তিস্তা-ঘাঘট, করতোয়া-যমুনেশ্বরী বিধৌত রংপুর জেলার প্রকৃতি মুড়ে আছে ঘন কুয়াশার চাদরে। হিমেল হাওয়া মাখা কনকনে ঠান্ডায় বেশিরভাগ শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। 

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবারও এ জেলায় একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ১৩ ডিগ্রি এবং সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। দিন যত যাচ্ছে তাপমাত্রার পারদ ওঠানামা করার সঙ্গে বাড়ছে ঘন কুয়াশা। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!