অভিযোগ থাকলেও বিষয়গুলো এতদিন প্রকাশ্যে আসেনি। সম্প্রতি এমনই একটি অভিযোগ তুলে খোদ ইটনা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার শরীফুল ইসলাম ও দলিল লেখক শাহ আলম ঠাকুরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হযরত আলী নামে এক দলিল গ্রহীতা। জেলা সাব-রেজিস্ট্রার, ইটনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ইটনা সেনাক্যাম্প বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
গত ৩১ ডিসেম্বর ও ২ জানুয়ারিতে দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, গত ২৪ ডিসেম্বর ইটনা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে তার ক্রয়কৃত ৭ শতাংশ বাড়ি দলিল করতে যান। যার ক্রয়মূল্য সাড়ে চার লাখ টাকা মাত্র। তখন দায়িত্বরত সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, এই জায়গায় যেহেতু বসতবাড়ি, তাহলে অবশ্যই স্থাপনা আছে। তাই এর দলিল মূল্য দিতে হবে ১৯ লাখ টাকা। যার দলিল খরচ সর্বসাকুল্যে ৩ লাখ।
.png)
এ সময় দলিল লেখক শাহ আলম ঠাকুরের মধ্যস্থতায় ১৯ লাখ টাকার দলিল হবে; এজন্য ভুক্তভোগীর কাছ থেকে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা দলিল খরচ নেন। বিষয়টির অভিযোগের কপি গণমাধ্যমের হাতে পৌঁছলে শুরু হয় দৌড়ঝাঁপ। কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে অভিযোগকারীর টাকা ফেরতের মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছে বলেও জানা যায়।
ইটনা বড়হাটির প্রতারণার স্বীকার অভিযোগকারী দলিল গ্রহীতা হযরত আলী বলেন, আমি নকল দলিল হাতে পাওয়ার পর জানতে পারি আমার কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা দলিলের খরচ নিলেও সাড়ে ৪ লাখ টাকার দলিল প্রতারণামূলকভাবে করে দেওয়া হয়েছে। যার সর্বসাকুল্য খরচ সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা। দলিল নং ১০৫৪ রেজিস্ট্রি সাব-কবলা হয়। অর্থাৎ প্রতারণা ও দুর্নীতির মাধ্যমে আমার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা বেশি নিয়েছিল। অভিযোগের পর প্রতারণা ও দুর্নীতির মাধ্যমে নেয়া দেড় লাখ টাকা ফেরত দিয়ে দিয়েছে।
অভিযোগের ব্যাপারে দলিল লেখক শাহ আলম ঠাকুর বলেন, এত টাকা নয়, কিছু টাকা বেশি নেয়া হয়েছিল। তা ফেরত দিয়ে সমাধান করা হয়েছে। এখন আর নিউজের কিছু নেই।
অভিযোগের ব্যাপারে ইটনা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার শরীফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অফিসের বাইরের। তাছাড়া এগুলো দলিল লেখকদের সঙ্গে দাতা-গ্রহীতাদের দাম-দরের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
অভিযোগের বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য খুব দ্রুত একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।