সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে রানীর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্বজন মো. মকবুল হোসেন।
মকবুল হোসেন বলেন, অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেয়ার পথে কুমিল্লায় নুরজাহান আক্তার রানী মারা গেছেন। দগ্ধদের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়ায়। মরদেহ বাড়িতে নেয়া হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হয়েছে।
.png)
এর আগে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালিশহর এইচ ব্লকের এসি মসজিদ সংলগ্ন হালিমা মঞ্জিল নামে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় এ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে দগ্ধ হন নারী-শিশুসহ একই পরিবারের নয়জন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছার আগেই স্থানীয়রা দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
দগ্ধ বাকি আটজন হলেন- শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), মো. শিপন (৩০), মো. সুমন (৪০), মো. শাওন (১৭), মো. আনাস (৭), উম্মে আইমন (৯), আয়েশা আক্তার (৪) ও পাখি আক্তার (৩৫)।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, দগ্ধদের মধ্যে শাখাওয়াত হোসেন, পাখি আক্তার ও নুরজাহান আক্তার রানীর শ্বাসনালি শতভাগ পুড়ে গেছে। শিপনের ৮০ শতাংশ পুড়েছে। সুমন ও শাওনের পুড়েছে ৪৫ শতাংশ। তিন শিশু আনাস, উম্মে আইমন ও আয়েশা আক্তারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।
বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার লিটন কুমার পালিত বলেন, দগ্ধদের সবার শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
ঢাকার জাতীয় বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, দগ্ধদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেফার করা হয়েছে। বাকিদের অবজারভেশন শেষে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেফার করা হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ওই বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয় না। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- কোনো কারণে চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়েছিল, যে কারণে রান্নাঘরে গ্যাস জমে যায়। সেই জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে সবাই দগ্ধ হয়েছেন।