বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মাগরিবের পরপরই প্রথমে পাম্পে লিকেজ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহা মোরশেদ হোসেন।
তিনি বলেন, প্রথম দফায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফের রাত ৮টার দিকে দ্বিতীয় গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস, সেনা ও বিমানবাহিনীর ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের আরো একটি ইউনিটকে রিজার্ভ রাখা হয়। তবে রাত ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও গ্যাস লিকেজ বন্ধ করা যায়নি।
.png)
দগ্ধরা হলেন- চকরিয়ার সিকদার পাড়ার মিজানুর রহমানের ছেলে সাকিব (২৪), রামুর জোয়ারিয়ানালার আবুল হোসেনের ছেলে সিরাজ (২৪), কলাতলীর মৃত জাকারিয়ার ছেলে আব্দুর রহিম (৪৫), আদশগ্রামের আবদু রশিদের ছেলে মোতাহের (৪৫), কক্সবাজার পৌরসভার বাহারছড়ার কালামিয়ার ছেলে কামরুল হাসান, (৩০), আবু তাহের (৪৫), মেহেদী (২৬), খোরশেদ আলম (৫৩) ও টিটন সেন (৪০)।
বিমানবাহিনীর কক্সবাজারস্থ অফিসার কমান্ডিং স্কোয়াডন লিডার ফারসিন বলেন, বিমানবাহিনীর দুটি টিম দুটি ভেহিকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দুটি ভেহিকেল দুই রাউন্ড রিফিল সম্পন্ন করেছে। দুটি ভেডিকেল ৪ বার রিফিল করে এনে আগুন নেভানোর জন্য কাজ করছে। আমরা অবিরত পানি ব্যবহার করছি, তবে গ্যাস এখনও বের হচ্ছে। এছাড়াও স্থানীয় লোকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করার কাজ করছে বিমান বাহিনী।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবু সাইদ বলেন, বার্ন ইউনিট না থাকায় দগ্ধদের মধ্যে ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে আবদুর রহিম ও আবু তাহেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছেন। বাকিদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ও দুইজনকে চিকিৎসা শেষে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সরেজমিনে খোঁজ নিতে আসেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।
তিনি বলেন, গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণের ঘটনায় হাসপাতলে ১০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয় চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। একজন সামান্য আহত এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও উৎসুক জনতার ভিড় এড়াতে ঘটনাস্থলে কাজ করছেন সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, নৌ স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরা।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, আগুন প্রায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে গ্যাস নিঃসরণের কারণে আশেপাশের মানুষদের সতর্ক করা হচ্ছে। অনুরোধ করা হচ্ছে কেউ সিগারেট বা অন্য কোনো আগুনের উৎস ব্যবহার করবেন না, কারণ গ্যাস নিঃসরণের ফলে আগুন আবার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, গ্যাস লিকেজ ছিল এবং আনলোডের সময় আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ৫টিসহ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মোট ৯টি ইউনিটের সদস্যরা এবং তাদের যানবাহনগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। গ্যাস পাম্প স্টেশনটি স্থাপনের ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের কোনো অনুমতি নেয়নি মালিক কর্তৃপক্ষ। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।