রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সরেজমিন তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বাহির এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা দর্শনার্থীদের মিলনমেলা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেউ গণপরিবহনে, আবার অনেকে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে এসেছেন ঘুরতে।
নদীর মোহনায় প্রাকৃতিক পরিবেশে এই স্থানটির দৃশ্য সকালে একরকম, দুপুরে আরেকরকম। বিকেলে সূর্যাস্তের সময় খুবই চমৎকার দৃশ্য ধারণ করে। তবে রাতে বেশি সময় থাকার ব্যবস্থা না থাকলেও জোস্না রাতে আরেক সৌন্দর্য্য অবতরণ হয়। প্রিয়জনদের নিয়ে নৌকা করে রাতের বেলায় ডাকাতিয়া নদীতে ঘুরতে পারলে ভালো সময় কাটানো যেতে পারে।
.png)
মোহনার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে ছোট বড় ট্রলার ও স্পীড বোট। এসব ট্রলার আর স্পীড বোট দিয়ে মেঘনা নদীর পশ্চিম পাশে মিনি কক্সবাজার নামক স্থানে ঘুরে আসা যায়। তবে বিকেল ৫টার মধ্যে আবার মোহনায় চলে আসতে হয়। আসা-যাওয়া ট্রলারে জনপ্রতি ভাড়া ১০০টাকা। স্পীড বোটে জনপ্রতি ভাড়া কমপক্ষে ৩০০ টাকা। এখানে আসলে মাইকে ঘোষণা শোনা যাবে ট্রলারে যাওয়ার জন্য।
জেলার কচুয়া থেকে ঘুরতে আসা শাহাদাত হোসেন বলেন, ঈদ ছাড়াও এখানে ঘুরতে আসেন। বেশ কয়েকবার এসেছেন। এখানকার মনমুগ্ধকর দৃশ্য বারবার আসতে আহবান করে তাকে।
একই উপজেলার শিক্ষক সোলাইমান বলেন, মূলত জেলার পরিচিতি হচ্ছে ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’। আর এই স্থানটিতে আসলে ইলিশের বাড়ির আনন্দ পাওয়া যায়। নদীর প্রাকৃতিক দৃশ্য খুবই চমৎকার। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এটি অন্যতম একটি স্থান।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার চান্দ্রা থেকে ঘুরতে এসেছেন আল-আমিন ও তার তিন বন্ধু। তারা এর আগেও এসেছেন। এবারের ঈদের তাদের ঘুরাঘুরির অন্যতম স্থান তিন নদীর মোহনা। জানালেন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাদের প্রতিটি মুহূর্ত খুবই চমৎকার কেটেছে।
বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন সদরের মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, এখানকার নদীর ঢেউ ও পরিবেশ দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যে কেউ ভালো সময় কাটাতে পারবেন। ঈদ উপলক্ষে বহু মানুষ ঘুরতে এসেছে। সবকিছু মিলিয়ে এই জায়গাটি তার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।
চাঁদপুর বারের আইনজীবী ও লেখক রফিকুজ্জামান রণি বলেন, জেলার সাতাশ লাখ মানুষের জন্য বিশেষ কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই। যে কারণে সাধারণ মানুষ উৎসব কিংবা অবসরে তিন নদীর মোহনায় আসে। তবে এবারের ঈদের পূর্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই স্থানের অস্থায়ী দোকানগুলো উচ্ছেদ করার পরিবেশ আরো সুন্দর হয়েছে।
সাংস্কৃতিক সংগঠক ও অভিনেতা শরীফ চৌধুরী বলেন, বিনোদন কিংবা সময় কাটানোর কোনো ভালো পর্যটন কেন্দ্র না থাকায় লোকজন তিন নদীর মোহনায় এসে ভিড় জমায়। তবে সরকারিভাবে মেরিন ড্রাইভ কিংবা বড় ধরনের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ সময় কাটানোর জন্য বিনোদন কেন্দ্র পাবে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে পুলিশ পুরো শহরে দিন ও রাতে দায়িত্ব পালন করছে। বিশেষ করে তিন নদীর মোহনায় আসা পর্যটকদের যেন কোনো ধরনের সমস্যা না হয় সেজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
চাঁদপুর নৌ থানার ওসি একেএমএস ইকবাল বলেন, লঞ্চঘাটসহ চাঁদপুর নৌ এলাকায় নৌ পুলিশ সার্বক্ষিণক টহল ব্যবস্থা রেখেছে। বিশেষ করে ঈদ উপলক্ষে তিন নদীর মোহনা নজরদারীতে রয়েছে।