এদিকে তার ঘুষের কমিশনের দর কষাকষি ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে বদলি করা হয়েছে তার নিজ জেলা পাবলা জেলার সাঁথিয়া উপজেলায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পঞ্চগড়ের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল আলম।
অভিযুক্ত ওই প্রকৌশলীর ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ভিডিওতে দেখা যায় ইদ্রিস আলী খান তার অফিসকক্ষে বসে একজন ঠিকাদারের সঙ্গে ক্যালকুলেটর চেপে ঘুষের টাকার কমিশনের দর কষাকষি করছেন। ভিডিওটিতে তিনি একটি প্রকল্পের কমিশনের টাকার হিসাব করার সময় সেখানে তাকে প্রকল্পের ০.৭৫% হিসেবে ঘুষ দাবি করা কথোপকথন শোনা যায়। এছাড়া ওই ভিডিওর এক অংশে তাকে বলতে শোনা যায়, সব বাদ দিয়ে ৫০ দেন, হিসাব শেষ, ইমানদারী, এর কম কেউই দেয় না৷
.png)
এদিকে ওই প্রকৌশলীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পড় নড়েচড়ে বসে প্রশাসন৷ পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হককে আহ্বায়ক করে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করলে অভিযুক্ত ওই প্রকৌশলীর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে অফিসে অনুপস্থিত। সদস্যরা সরেজমিন তার অফিসে একাধিকবার গিয়েও তাকে না পায়নি বলে জানান৷ এছাড়া তার বক্তব্যের জন্য তার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোন যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে জানায় তদন্ত কমিটি।
এদিকে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ওই প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার ঘটনা এলাকায় আরও সমালোচনার সৃষ্টি জন্ম দিয়েছে। তাকে তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকে সরিয়ে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছে৷ যা তার নিজ জেলায় ও তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী উপজেলা। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে সমালোচনা।
এদিকে স্থানীয় ও সচেতন মহল বলছেন, অভিযুক্ত ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা কোনো তদন্ত না করে ওল্টো তার পছন্দের ও নিজ জেলায় বদলি করা হয়েছে। এটি প্রকৃতপক্ষে শাস্তির দেওয়ার নামে বদলি করে বরং তাকে সুবিধাজনক জায়গায় পাঠিয়ে পুরস্কৃতই করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
শুধু ঘুষের সম্পৃক্ততার ঘটনায় নয়, তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা, ঠিকাদারদের হয়রানি, অফিসে দায়িত্ব পালনের সময় ও প্রকাশ্যে ধুমপান করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে তার সম্পদ বৃদ্ধি নিয়েও৷
মো. আরিফ নামে এক ঠিকাদার বলেন, একজন ইঞ্জিনিয়ারের মধ্যে যে গুণ থাকা দরকার সেটি ইদ্রিস আলীর মধ্যে ছিল না৷ আমাদের যেদিন ঢালাই কাজ করার কথা থাকতো তিনি সময়ক্ষেপণ, দায়িত্বে অবহেলা করতেন। প্রকৌশলীদের কাছে তারা এক প্রকার জিম্মি বলে অভিযোগও করেন৷
সামাজিক সংগঠক মানিক খান বলেন, একজন প্রকৌশলী হয়ে যদি তার অফিসে বসে প্রকল্পের কাজে এমন করে ঘুষ আদায় করে তাহলে আমাদের দেশে টেকসই উন্নয়নে ব্যাপক বাঁধাগ্রস্ত হবে। আমরা চাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত। বদলিই সমাধান নয়, আমরা চাই তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এত বড় অপরাধ করেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাকে উপহার স্বরূপ হিসেবে তাকে তার নিজ জেলায় বাড়ির পার্শ্ববর্তী উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন অভিযুক্ত ইদ্রিস আলী খান বলেন, একজন ইঞ্জিনিয়ারের কাজই হলো হিসাব করা৷ আমি এসব নিয়ে টেনশন করি না৷
এদিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হক বলেন,তদন্ত কমিটির সদস্যরা একাধিকবার তার অফিসে গিয়ে তাকে পাইনি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অ.দা.) ফাহমিদা সুলতানা বলেন, ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এবং আমাকে গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি অবগত করলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়৷ কিন্তু তাকে অফিসে গিয়ে এবং যোগাযোগ করে তাকে পায়নি বলে জানান তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা অফিসে পাঠানো হবে।
এদিকে জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল আলম বলেন, এটি পূর্বের ঘটনা, আমি নতুন যোগদান করেছি৷ তবে তেঁতুলিয়ার প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। আপাতত তেঁতুলিয়ায় নতুন করে কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি৷