শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ১১টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের হীরকপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখানে পর্নোগ্রাফি তৈরির কার্যক্রম চলছিল বলে পুলিশের দাবি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের মামুনী আক্তার (২৪), গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অভিরামপুর হাজিপাড়ার রাকিবুল হাসান রাকিব (৩০), সাদুল্লাপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুরের রেজেনা খাতুন সাথী (২৮) এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের মামুন অর রশিদ (৩০)।
.png)
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মামুনী আক্তার ও রেজেনা খাতুন ভিডিও ধারণে অংশ নিচ্ছিলেন। অন্যদিকে রাকিবুল হাসান ও মামুন অর রশিদ প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
অভিযানে চারটি মোবাইল ফোন, দুটি ওয়াইফাই রাউটার, ভিডিও ধারণের জন্য ব্যবহৃত আলোকসজ্জার সরঞ্জাম, একটি ট্রাইপডসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক উপকরণ জব্দ করা হয়। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলোতে থাকা তথ্য যাচাই করতে সেগুলো ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সাইবার ক্রাইম ইউনিটে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে আরও কয়েকজন পলাতক ব্যক্তি ওই বাসায় অবস্থান করে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহসান হাবীব সরকার জানান, এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে পলাতক ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের দাবি, ডিজিটাল ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষার পর এ ঘটনায় আরও কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না এবং অনলাইনে কোনো কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
সমাজকর্মীরা বলছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও ইন্টারনেটের বিস্তারের সঙ্গে এ ধরনের অপরাধের ঝুঁকিও বাড়ছে। অনলাইনে অবৈধ ও ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।