রোববার হবিগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মান্নান তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে তারা আদালতে হাজির হয়ে জমিন আবেদন করেন।
আদালত থেকে জামিন পেয়েই জামিন পেয়ে ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, যদি ঘটনার আমার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারে তবে রাজনীতি ছেড়ে দেব।
.png)
তিনি বলেন, আমরা বরাবরই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এনসিপির বন্ধুরা একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আমাকেও জড়ানো হয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। মামলার কোথাও ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থানের উল্লেখ নেই। আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগও নেই। হাতে লেখা একটি অভিযোগ দিয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আমি মনে করি এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমাদেরকে হেয় করাই মূল উদ্দেশ্য। একটি জিনিস মনে রাখতে হবে, কাউকে অযথা হেয় করতে গেলে নিজেই কিন্তু হেয় হতে হয়। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, আমি এনসিপির বন্ধুদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছি যে, সংঘর্ষের ঘটনায় যদি আমার সম্পৃক্ততা তারা প্রমাণ করতে পারেন তবে রাজনীতি ছেড়ে দেব।
তাদের জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আসামি পক্ষের আইনজীবী কুতুব উদ্দিন জুয়েল বলেন, মামলায় ঘটনার সময়, তারিখ ও স্থান উল্লেখ নেই। আসামিদের বিরুদ্ধেও কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের উল্লেখ নেই। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিচারক তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিনব্যাপী হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও জেলা শহরে এনসিপির কর্মসূচি ছিল। এতে এনসিপির নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন। সন্ধ্যায় জেলা শহরের সমাবেশ শেষ করে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম সার্কিট হাউজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথে কোর্ট মসজিদের সামনে পৌছলে তাদের গাড়ি বহরে একদল যুবক হামলা করে। এক পর্যায়ে সারজিস আলমসহ নেতাকর্মীরা সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় গিয়ে আশ্রয় নেন। তখন দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। এ ঘটনায় বুধবার রাতে এনসিপির ছাত্র সংগঠন জেলা ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ১০০ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।