স্থানীয়দের অভিযোগ, সাপাহার উপজেলার জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে ভ্যান ও ট্রলিযোগে নিয়মিতভাবে বিএডিসির ডিএপি সার পোরশা উপজেলা এবং কখনো চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় কৃষকদের নজরে আসার পর এলাকায় এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, নিজেদের উপজেলাতেই চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় দোকানে গিয়ে ডিলারদের কাছ থেকে ‘সার নেই’ বলে ফিরতে হচ্ছে। অথচ একই সময়ে বিপুল পরিমাণ সার অন্য উপজেলায় চলে যাচ্ছে। এতে সার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
.png)
সরেজমিনে মিলল সার পরিবহনের তথ্য
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে সাপাহার জিরো পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে প্রায় ১০০ বস্তা ডিএপি সার একটি ট্রলিতে করে অন্যত্র নিয়ে যেতে দেখা যায়। সারগুলো রঙিন পলিথিন দিয়ে ঢেকে পরিবহন করা হচ্ছিল।
ট্রলিচালক সিদ্দিক জানান, তিনি সাপাহার জিরো পয়েন্ট থেকে সারগুলো নিয়েছেন। এগুলো পোরশা উপজেলার নাছির নামে এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা। তবে সার কোথা থেকে এসেছে বা এর কাগজপত্র সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, প্রায় ২০ বস্তা ডিএপি সার নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের দিকে যাচ্ছিলেন ইসমাইল নামে এক ভ্যানচালক। তিনি বলেন, সাপাহার-পোরশা এলাকা থেকে এসব সার সংগ্রহ করেছেন। গোমস্তাপুরে বড় আমবাগান রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে সার সংগ্রহ করে নেওয়া হয়। তবে তার কাছে কোনো রশিদ নেই বলেও জানান তিনি।
চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ডিএপি সার বিক্রি করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, ‘ডিএপি সার কিনতে গেলে বেশিরভাগ সময় ডিলাররা সার নেই বলে জানান। অথচ ১ হাজার ৫০ টাকার সার বিভিন্নভাবে হাতবদল হয়ে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাড়তি দাম দিতে পারলে সার পাওয়া যায়।’
ওই কৃষক বলেন, কৃষি বিভাগের অনুমতি বা সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা ছাড়া এত বিপুল পরিমাণ সার এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যাওয়ার সুযোগ থাকার কথা নয়। সার পরিবহনের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে এসব সার অন্যত্র যাচ্ছে, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।
আরেক কৃষক বলেন, ‘প্রয়োজনের সময় ডিএপি সার কিনতে আমাদের দোকানে দোকানে ঘুরতে হয়। অথচ আমাদের এলাকার সার যদি অন্য উপজেলায় চলে যায়, তাহলে আমরা সার পাব কীভাবে? বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকের জন্য বরাদ্দ করা সার কৃষকের কাছেই পৌঁছানোর কথা। আমরা সার সংকটে থাকি, অথচ একসঙ্গে ১০০ বস্তা সার অন্য উপজেলায় চলে যাচ্ছে—এটা খুবই দুঃখজনক। এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করা দরকার।’
কৃষি অফিসের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. শাপলা খাতুন বলেন, ‘আমি ডিলারের খোঁজ নিচ্ছি। আমি একটু অসুস্থ। মনিরকে (অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা) বিষয়টি খোঁজ নিতে বলছি।’
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষকের জন্য বরাদ্দ করা ডিএপি সার কীভাবে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলা ও অন্য জেলায় যাচ্ছে, তা তদন্ত করে দেখা হোক। একই সঙ্গে সার পরিবহনের সঙ্গে কোনো ডিলার, ব্যবসায়ী কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।