ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দাকোপের পানখালীকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ ঘোষণা

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৩২, ১০ আগস্ট ২০২৬
দাকোপের পানখালীকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হলরুমে আয়োজিত ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পলিসি প্রোগ্রাম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের তিনটি গ্রামকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিন গ্রামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘এসডিজি ভিলেজ পাইলট প্রোগ্রাম’ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসডিজি ভিলেজের জন্য নেওয়া পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্বাচিত তিনটি গ্রামকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

Advertisement

খুলনার পানখালীর মমতাজ বেগম মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রান্ত থেকে জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, পানখালীতে নানা চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বিপুল সম্ভাবনাও রয়েছে। টেকসই উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, পরিবেশের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় খুলনার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে কাজ করবেন। এ ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পানখালীর স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা। তিনি বলেন, দাকোপ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত একটি অঞ্চল। এর মধ্যে পানখালী আরও পিছিয়ে রয়েছে। গ্রামটিকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে নির্বাচিত করায় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

পানখালীর অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে নদীভাঙনের কথা উল্লেখ করে কেডিএ চেয়ারম্যান বলেন, গ্রামের তিনটি স্থানে ব্যাপক নদীভাঙন চলছে। এতে স্থানীয় মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অনেক সময় এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। নদীভাঙন রোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, পানখালীর মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সুন্দরবনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। স্থানীয় অনেকে সুন্দরবনে কাঠ সংগ্রহ, মধু আহরণসহ বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের নিরাপদে সুন্দরবনে যাতায়াতের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ ছাড়া দীর্ঘদিনের দাবি পানখালী সেতু নির্মাণের বিষয়টিও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন কেডিএ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এসডিজি ভিলেজ কর্মসূচির আওতায় গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে খুলনার অংশে জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত, কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, খুলনার পুলিশ সুপার মো. তাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কৃষক, গৃহিণী ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এসডিজি ভিলেজ পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় নির্বাচিত তিনটি গ্রামের স্থানীয় চাহিদা, সম্ভাবনা ও সমস্যাকে বিবেচনায় নিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের এসডিজি লক্ষ্য স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের একটি কার্যকর মডেল তৈরি করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর পানখালীসহ দেশের তিনটি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: খুলনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!