ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বগুড়ায় ৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৩২, ১০ আগস্ট ২০২৬
বগুড়ায় ৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি
ছবি: সংগৃহীত

চলতি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বগুড়ার নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। এর মধ্যে আটটি মাদরাসা ও একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়। বগুড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—গাবতলীর কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদরাসা, শিবগঞ্জের বালা বত্রিশ দাখিল মাদরাসা, ধাড়িয়া গাংগইট দাখিল মাদরাসা ও দুদাহার রহমানিয়া দাখিল মাদরাসা।

Advertisement

এ ছাড়া শেরপুরের কল্যাণী বালিকা দাখিল মাদরাসা ও মধ্যভাগ বালিকা দাখিল মাদরাসা রয়েছে। সোনাতলার তেকানী চুকাইনগর পিএম দাখিল মাদরাসা এবং ধুনটের রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদরাসাও রয়েছে। তালিকায় ধুনটের হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজও রয়েছে।

এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমার ৫০ বছরের কর্মজীবনে এটি মাদরাসাটির সবচেয়ে খারাপ ফল। এ ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও দুর্বল ছিল। ২১ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও এমন ফল হতাশাজনক। বর্তমানে আলিম মাদরাসায় শিক্ষার্থী ধরে রাখা এবং তাদের নিয়মিত ক্লাসমুখী করাই বড় চ্যালেঞ্জ।’

শিবগঞ্জের বালা বত্রিশ দাখিল মাদরাসার সুপার জুয়েলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত নয়। এবার মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতিই খারাপ ফলের অন্যতম কারণ। অন্য কোনো কারণ আমি দেখছি না।’

ধুনটের হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক এ বিষয়ে পরে মন্তব্য করবেন বলে জানিয়েছেন।

বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা আক্তার বলেন, জেলার নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন।

ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘুরে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা করা হবে।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, মাদরাসাগুলোর শিক্ষার মান বাড়াতে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক সময় অবহেলিত ও দুর্বল শিক্ষার্থীদের এসব মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়। এটিও খারাপ ফলের একটি কারণ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: বগুড়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!