বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) গাইবান্ধা সদর থানায় এজাহারটি দায়ের করেন ফুলছড়ি উপজেলার সিংড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও বাদিয়াখালী বাজারের ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. ফরিদ মিয়া। এজাহারে অভিযুক্ত করা হয়েছে মো. ময়নুল ইসলাম (৩৪), প্রদীপ দাস পাপ্পু (৪৪) ও মো. মিঠু মিয়াকে (৩৮), সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকেও আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, চাঁদার টাকা আদায় করতে ব্যর্থ হওয়ার জেরে গত ৩ আগস্ট প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে ফরিদ মিয়ার দোকানের নাম উল্লেখ করে সেখানে চোরাই মালামাল মজুত রয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য প্রচার করেন অভিযুক্ত মিঠু মিয়া। বাদীর দাবি, এই প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ উদ্দেশ্যে প্রকাশিত, যার ফলে তার ব্যবসায়িক সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং ব্যক্তিগত মানহানিও ঘটেছে।
.png)
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই দুপুর ১টার দিকে ফরিদ মিয়া বাদিয়াখালী বাজারের বাঁশহাটিতে তাঁর দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা দোকানে ঢুকে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেন এবং দোকানে অবৈধ মালামাল থাকার অভিযোগ তুলে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
দোকানে কোনো অবৈধ মালামাল না থাকায় ফরিদ মিয়া চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে জানা গেছে। এর পরই অভিযুক্তরা দোকানের ভাঙারি মালামালের ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে নষ্ট করেন, যাতে আনুমানিক ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয় বলে দাবি করা হয়েছে এজাহারে। এরপর বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তারা স্থান ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে মো. ফরিদ মিয়া বলেন, ‘আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্যই আইনের আশ্রয় নিয়েছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা করছি আমি।’
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এজাহার দায়েরের পর অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।