স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৮ আগস্ট দিনদুপুরে কয়েকজন ব্যক্তি গোবরা নদীর পানিতে বিষাক্ত ট্যাবলেট প্রয়োগ করেন। কিছু সময়ের মধ্যেই নদীর পানিতে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মারা যেতে শুরু করে। পরে নদীর বিভিন্ন অংশে মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর পানিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মরা মাছ। এসব মাছ পচে যাওয়ায় নদীর আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিষাক্ত পদার্থের প্রভাবে শুধু মাছ নয়, নদীর অন্যান্য ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী, পোকামাকড় ও উপকারী জীবও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নদীর খাদ্যশৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
.png)
নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, কিছু অসাধু ব্যক্তি স্বল্প সময়ে বেশি মাছ পাওয়ার আশায় এ ধরনের অবৈধ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে যেমন মাছের প্রজনন নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে নদীর জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নদীর পাড়ের বাসিন্দা শাজিনুর ইসলাম শাহিন বলেন, “নদীতে বিষ দেওয়ার পর অনেক মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠেছে। পরে সেগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে নদীর পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। যারা এ কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত পরিবেশকর্মী মাহমুদুল ইসলাম মামুন বলেন, নদীতে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করে মাছ ধরা একটি গুরুতর পরিবেশবিধ্বংসী কাজ। এর ফলে শুধু মাছ নয়, পানির ভেতরে থাকা ছোট ছোট জলজ প্রাণী, উপকারী জীব ও অন্যান্য প্রাণীও মারা যেতে পারে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পুরো জলজ প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর পড়বে।
তিনি আরও বলেন, “কয়েকজন ব্যক্তির স্বার্থে একটি নদীর জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না। বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি নদীতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিমেল চন্দ্র রায় বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নদীতে এ ধরনের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা হোক।