ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে পাবিপ্রবির ৫ শিক্ষকের গবেষণা প্রত্যাহার

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:২২, ২২ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে পাবিপ্রবির ৫ শিক্ষকের গবেষণা প্রত্যাহার
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গবেষণাপত্রে লেখকস্বত্ব ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিয়ে অসঙ্গতি, তথ্যসূত্রের ত্রুটি, চিত্রের ডুপ্লিকেশন, সন্দেহজনক ফলাফল, উপসংহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) পাঁচ শিক্ষকের গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নাল থেকে প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিয়ার রিভিউ প্রক্রিয়ায় কারচুপি, গবেষণার তথ্য ও ফলাফলে অসঙ্গতি, প্লেজিয়ারিজম (অন্যের লেখা, গবেষণা, তথ্য, ধারণা, ছবি বা ফলাফল নিজের নামে ব্যবহার করা), একই তথ্য পুনঃব্যবহার এবং অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র ও উদ্ধৃতি ব্যবহার করে সাইটেশন বাড়ানোর মতো অভিযোগে এসব গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্র ও সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী ‘রিট্র্যাকশন ওয়াচ’ ডাটাবেইজে অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রের সঙ্গে পাবিপ্রবির বর্তমান পাঁচ শিক্ষক ও সাবেক এক শিক্ষকের নাম রয়েছে। 

Advertisement

বর্তমান শিক্ষকরা হলেন গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূর আলম, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. তাহমিনা তাসনীম নাহার, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলী, ইইই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এএইচএম ইফতেখারুল ফেরদৌস এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মতিউর রহমান। 

সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. হারুনর রশীদ বর্তমানে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। তথ্য অনুযায়ী, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তাহমিনা তাসনীম নাহার ও মতিউর রহমানের যৌথ একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে। এছাড়া নূর আলম, লোকমান আলী ও ইফতেখারুল ফেরদৌসের একটি করে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের কারণ হিসাবে অনিচ্ছাকৃত রেফারেন্সজনিত ভুলের কথা জানিয়েছেন।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. লোকমান আলী বলেন, ‘এটি নি:সন্দেহে খারাপ কাজ। কিন্তু, প্রবন্ধ প্রত্যাহারের অনেকগুলো কারণ থাকে। আসলে এটা নির্ভর করে কী কারণে প্রত্যাহার হয়েছে তার ওপর। আমার ব্যাপারে যেটা হয়েছে, সেটা যদি আপনি নোটিশে দেখেন, একজন রিভিউয়ার তার দুইটা পেপার হাইড করার কারণে শুধুমাত্র রেফারেন্সের জন্য পেপারটা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তিনটা রেফারেন্স সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেছে তারা। আমি তাদেরকে মেইলও দিয়েছি, বলেছি বিষয়টার সঙ্গে রেফারেন্সটা সাঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।’

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক তাহমিনা তাসনীম নাহার বলেন, ‘প্রত্যাহার আসলে বিভিন্ন কারণে হয়। অপ্রত্যাশিত ভুলের কারণেও হয়। আমার বিষয়ে যেটা হয়েছে ভুলবশত একটা উদ্বৃতির কারণে। সেটা হলো আমি যে রেফারেন্স ব্যবহার করেছি, সেটা সঠিক নয়, অন্য একটা রেফারেন্স হবে। রেফারেন্সে অসঙ্গতি এটা আমার ভুল ছিল। তারা আমাকে মেইল করে জানায়, আমিও তাদের মেইল করে জানিয়েছি হ্যাঁ আসলে রেফারেন্সটা ঠিক হয়নি। ওটা আমার ভুলবশত হয়েছে। সংশোধনের জন্য অনুরোধ করলেও তারা প্রত্যাহার করে দেয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম শনিবার (২২ আগস্ট) বলেন, গবেষণা অনিয়মের বিষয়টি জেনেছি। এর আগে আনুমানিক ৭-৮ বছর আগে দুইজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ পেয়েছিলাম। তখন একটি তদন্ত কমিটি করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আমরা সেক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারবো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: পাবনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!