ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চিনিতে লোকসান, অ্যালকোহলে রেকর্ড মুনাফা কেরুর 

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:০৩, ২৩ আগস্ট ২০২৬
চিনিতে লোকসান, অ্যালকোহলে রেকর্ড মুনাফা কেরুর 
ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির চিনি উৎপাদন ইউনিটে বছরের পর বছর লোকসান হলেও ডিস্টিলারি ও অন্যান্য ইউনিটের আয়ে রেকর্ড মুনাফা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেরুর নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি টাকার বেশি, যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

কেরুর মুনাফার সবচেয়ে বড় উৎস ডিস্টিলারি ইউনিট। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিলেতি ও দেশীয় মদ উৎপাদন ও বিক্রি থেকে এ ইউনিটের মুনাফা হয়েছে প্রায় ২২৩ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এ খাত থেকে মুনাফা হয়েছিল ১৮৯ কোটি টাকা।

Advertisement

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফরেন লিকারের উৎপাদন ও বিক্রি দুটিই বেড়েছে। ফলে এ খাতের মুনাফাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের চিনি উৎপাদন ইউনিটে এবারও বড় ধরনের লোকসান হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে লোকসানের পরিমাণ ৬০ কোটি টাকার বেশি। আখের কম রিকভারি ও পর্যাপ্ত আখ সংগ্রহ করতে না পারাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, আখের জাত পরিবর্তন ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় উন্নতি করা গেলে চিনি উৎপাদন ইউনিটের লোকসান কমানো সম্ভব।

চিনি ছাড়াও কেরুর জৈব সার কারখানা, বাণিজ্যিক খামার ও ফার্মাসিউটিক্যালস ইউনিট থেকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা এসেছে। এসব ইউনিটের আয় এবং বিভিন্ন খাতের লোকসান ও রাজস্ব সমন্বয়ের পর প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ১৬৫ কোটি টাকার বেশি হয়েছে।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ১২৯ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল, যা তখন প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছিল। এক বছরের ব্যবধানে সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেল প্রতিষ্ঠানটি।

কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, বছরজুড়ে প্রকল্পটি সঠিকভাবে পরিচালনা করা গেলে চিনি উৎপাদন খাতের লোকসান কমানো সম্ভব। আখের রিকভারি বাড়ানো এবং চাষিদের কাছ থেকে বেশি পরিমাণে আখ সংগ্রহ করা গেলে চিনির উৎপাদন বাড়বে। একই সঙ্গে আখের অপচয়ও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!