সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের আয়োজনে শহরের শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দীপেন দেওয়ান বলেন, মাদক নির্মূলে প্রথমে পরিবারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদক আইন পরিবর্তন করে মাদক ব্যবসা ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
.png)
তিনি আরও বলেন, যারা মাদক বিক্রি ও বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত, তাদের কোনোভাবেই সহযোগিতা করা যাবে না। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে রাঙ্গামাটিকে মাদকমুক্ত রাখা সম্ভব। নিজের দলের কেউ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, মাদকের গডফাদার, ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের সদস্যদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে মাদক নামের এই ‘ক্যান্সার’ একা পুলিশের পক্ষে নির্মূল করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কোনো ছাড় নেই। পুলিশের কোনো সদস্য মাদক সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিআইজি বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের মাদক থেকে রক্ষা করব। মাদক নির্মূলে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।’ পাশাপাশি মাদক ও অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য নির্ভয়ে পুলিশকে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ডিআইজি।
রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল একরামুল রাহাত, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমীন, রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি মামুনুর রশীদ, শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমান, রাঙ্গামাটি ইমাম সমিতির সভাপতি এবিএম তোফায়েল উদ্দিন এবং রাঙামাটি কমিউনিটি পুলিশের সহসভাপতি নবজ্যোতি খীসা।
এর আগে ‘মাদককে প্রতিরোধ করি, যুব সমাজকে রক্ষা করি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে জেলা পুলিশের আয়োজনে শহরের তবলছড়ি এলাকা থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।