তারা জানে, সমুদ্র থেকে কাজের ফাঁকে ভিডিও কল দিয়ে কথা বলবেন বাবা। কিন্তু কয়েক দিন ধরে সেই ফোন আর বাজছে না। তারা শুধু জানে, বাবা হয়তো সমুদ্রের কাজে ব্যস্ত, তাই ফোন দিতে পারছেন না।
সাতক্ষীরা পৌরসভার আমতলা এলাকার ডক্টর আব্দুর রহিমের ছেলে মামুন পানামার পতাকাবাহী ‘এমভি ওশান উইনার’ জাহাজে কর্মরত ছিলেন। ভারতের উপকূলে বঙ্গোপসাগরে যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর থেকেই তার কোনো সন্ধান মিলছে না।
.png)
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বুধবার সবশেষ স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মামুন। শনিবার দুপুরে অন্য সূত্রে জাহাজডুবির খবর পৌঁছায় বাড়িতে। এর পর থেকেই ঘরে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভীড়, সকলের চোখেই অনিশ্চয়তা আর আশঙ্কার ছাপ।
বাড়িতে এখন স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। সবার চোখে দুশ্চিন্তার ছাপ। তবে মামুনের দুই সন্তান এখনো বাবার কলের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে। মোবাইল বাজলেই তারা ভাবছে বাবার ফোন। মারিফুল মাঝে মাঝেই মাকে জিজ্ঞেস করছে, ‘মা, বাবা ফোন দিচ্ছে না কেন?’ সন্তানদের এমন প্রশ্নে কথা বলতে পারছেন না মামুনের স্ত্রী।
নিখোঁজ মামুনের বাবা ডক্টর আব্দুর রহিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলে সমুদ্রে থাকলেও ফোনের মাধ্যমে আমাদের যোগাযোগ থাকত। জাহাজটা ডুবে যাওয়ার এত সময় পার হলেও ছেলেটা বেঁচে আছে কি না, সে খবরটুকু পাচ্ছি না। সরকারের কাছে আকুল আবেদন, যেন দ্রুত আমার ছেলেকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়।’
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ কায়সার আজিজ জানান, ঘটনাটি জানার পরই নিখোঁজ ইঞ্জিনিয়ারের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের উদ্ধারকারী দল ও কূটনৈতিক পর্যায়ে সার্বিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে মামুনের তথ্য পরিবারকে জানানোর চেষ্টা চলছে।