ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাবনায় একই ক্লিনিকে সিজারিয়ানের পর ১১ প্রসূতির যক্ষ্মা শনাক্ত

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:২৮, ২৫ আগস্ট ২০২৬
পাবনায় একই ক্লিনিকে সিজারিয়ানের পর ১১ প্রসূতির যক্ষ্মা শনাক্ত
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতাল নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ানের পর ১১ প্রসূতির যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া সেখানে অপর এক রোগীর গলব্লাডার অপারেশনের পর তারও যক্ষা হয়েছে। ওই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। 

এছাড়া এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাবনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তার চিকিৎসক জীবনে এর আগে এমন ঘটনা দেখেননি। 
 
যক্ষ্মায় আক্রান্ত প্রসূতিরা  হলেন ফরিদপুর উপজেলার বেড়হাউলিয়া গ্রামের তসলিমা খাতুন (২১) ও রিতা খাতুন (১৮), থানাপাড়ার জয়া রানী (২০) ও আয়েশা খাতুন (১৮), রুলদহের মারুফা খাতুন (২২), চিথুলিয়ার খুশি খাতুন (১৮), মৃধাপাড়ার মিতা খাতুন (৩২),সোনাহারার মরিয়ম খাতুন (৪৫), শাকপালার তানিয়া খাতুন (২৮) খলিশাদহের লিমা খাতুন (২২), বাদালের আতিয়া খাতুন (২৫) ও আমলাপাড়ার জুথি খাতুন (২২)। 

জানা গেছে, ফরিদপুরে  আল-মদিনা নামে ওই প্রাইভেট হাসপাতাল বিভিন্ন সময়ে এই ১১ নারী সিজার এবং ১ জন রোগী পিত্তথলির অপারেশন করার পরে তাদের ঘা শুকাচ্ছিল না।  পরে তারা ওই প্রাইভেট হাসপাতালকে বিষয়টি জানালে তারা কয়েকজন রোগীর টিস্যু নিয়ে অন্য জায়গায় পরীক্ষা করে দেখেন তাদের যক্ষ্মা হয়েছে। কয়েকজন রোগী ব্যক্তিগতভাবে অন্যত্র পরীক্ষা করে জানতে পারেন তাদেরও যক্ষ্মা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানার পর তিনি ওই হাসপাতালের ১২ জন রোগীর তালিকা গত ১৩ আগস্ট পাবনা সিভিল সার্জনের কাছে পাঠান। এরপর স্বাস্থ্য বিভাগ সেখানে অভিযান পরিাচলনার সিদ্ধান্ত নেয়। তারই অংশ হিসেবে সোমবার (২৪ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে ইমামা বানিন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. রাশেদুল হাসান শাওন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।  

Advertisement

থানা পাড়ার ভুক্তভোগী প্রসূতি আয়েশার শ্বশুর মোহন আলী জানান, গত ৩১ মে সিজারের মাধ্যমে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তার পুত্রবধূ।  অপারেশনের ক্ষতস্থান দীর্ঘ দিনেও না শুকানোয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার যক্ষ্মা ধরা পড়ে। বর্তমানে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার একটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। অপর ভুক্তভোগী থানাপাড়ার জয়া রাণী এবং গোপালনগরের দিনমজুরের স্ত্রী মিতা খাতুনেরও সিজারের পর ক্ষত না শুকিয়ে যক্ষ্মা ধরা পড়ে। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে তারা জানান। 

আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা  বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এমন ঘটনায় আমরা দুঃখিত। ‘আসলে কোন রোগী থেকে এই জীবাণু ছড়িয়েছে সেটি আমরা বুঝতে পারছি না। ঘটনার বিষয়টি জানার পর থেকেই আমরা সব ধরনের অপারেশন বন্ধ রেখেছি। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারসহ প্রয়োজনীয় স্থান জীবাণুমুক্ত করার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।’  

ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হাসান শাওন বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বেসরকারি হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তারা জবাব দিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ব্যবস্থা নেবে।’ 

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এ কর্মকর্তা আরও জানান, সোমবার এ ঘটনায় ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আশিকুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাবনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ মঙ্গলবার বিকেলে জানান, তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছেন। তিনি জানান, ওই হাসপাতালের সব যন্ত্রপাতি সেকেলে ও পুরোনো। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো রোগীর দেহ থেকে ওই সব যন্ত্রপাতির মাধ্যমে জীবাণু ছড়িয়েছে।

তিনি জানান, ইনফেকশন বা যক্ষ্মার সংক্রমণ হতে পারে, তবে এত ব্যাপকভাবে হওয়াটা অস্বাভাবিক। তার চিকিৎসক জীবনে এমন ভয়াবহভাবে সংক্রমণের ঘটনা তিনি দেখেননি বলে জানান। 

তিনি বলেন, তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: পাবনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!