এদিকে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্যসহ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার বিষয়ে গত ২৮ আগস্ট টাঙ্গাইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রুমি আক্তার পলি। তিনি গ্লোবাল টেলিভিশনের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, ডেইলি বাংলাদেশ-এর বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক এবং টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সদস্য।
এ বিষয়ে রুমি আক্তার পলি জানান, গত ২৪ আগস্ট পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে ঢাকায় কর্মরত সহকর্মীকে বিদায় জানিয়ে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে আসেন তিনি। পরে প্রেসক্লাব থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় এক সহকর্মীর উপস্থিতিতে প্রেসক্লাবের সদস্য অলোক কুমার দাস তাকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও মানহানিকর কথা বলেন।
.png)
তিনি আরো বলেন, আমি পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করে ধৈর্যের সঙ্গে বিষয়টি সামাল দেই। ওই রাতেই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদককে বিষয়টি জানাই। পরদিন ২৫ আগস্ট সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি। কিন্তু চার দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাইনি। প্রেসক্লাবে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই লাবু খন্দকার নামে একজন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি নিয়ে একটি ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্যসহ পোস্ট করছেন।

পলির দাবি, অলোক কুমার দাসের নির্দেশেই এসব পোস্ট করা হচ্ছে। কারণ লাবু খন্দকারের একাধিক পোস্টে অলোক কুমার দাসকে সমর্থন করে আমার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে। এমনকি অলোক কুমার দাস নিজেও কয়েকটি পোস্টে লাইক দিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। অভিযোগ দেওয়ার পরও এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় আমার মনে হচ্ছে, আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব করা হচ্ছে।
লাবু খন্দকারের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় নেই দাবি করে পলি বলেন, তার সঙ্গে আমার কখনো সামনা-সামনি দেখা হয়নি। আমি তাকে চিনিও না, তিনিও আমাকে চেনেন না। অথচ তিনি আমার সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করছেন, তাতে মনে হচ্ছে তিনি ঘটনাটির প্রকৃত বিষয় না জেনেই মন্তব্য করছেন।
রুমি আক্তার পলি জানান, তার চাচা এনটিভির স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি মহব্বত হোসেন ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে উপযুক্ত বিচার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে মহব্বত হোসেনকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর মন্তব্য ও পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গত ২৮ আগস্ট টাঙ্গাইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানান রুমি আক্তার পলি। তিনি বলেন, একজন নারী সাংবাদিক হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি আমাকে হেনস্থার শিকার হতে হয় এবং অভিযোগ জানানোর পরও যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের অপপ্রচার চলতে থাকে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা চাই।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মাওলা বলেন, এ বিষয় নিয়ে আগামী পরশু (সোমবার) প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা আহবান করা হয়েছে। আশা করি ওই সভায় পলির বিষয়টি সমাধান হবে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত অলোক কুমার দাস এর আগেও পলিকে অশালীন কথা বলেছেন। এছাড়া কিছুদিন আগে আরেক নারী সাংবাদিক নাহার চাকলাদারের সঙ্গেও অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ আচরণের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি গ্রীন টেলিভিশনের এক প্রতিনিধির সঙ্গেও একই ধরনের আচরণের অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অলোক কুমার দাস টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার পর থেকে তার আচরণ নিয়ে সাংবাদিকদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তার সদস্যপদ পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে কয়েকজন সাংবাদিক দাবি করেছেন।