পানি ছাড়ার সময় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল প্রায় ১০৫ দশমিক ৯৮ ফুট এমএসএল।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান পানি ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
.png)
এর আগে শনিবার দুপুরে কেন্দ্রের ব্যবস্থাপকের স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।
হ্রদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত মাসেও কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি গেট খুলে পানি ছাড়া হয়েছিল।
বর্তমানে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। এর সঙ্গে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে আরও প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়ায় কর্ণফুলী নদীতে পানির প্রবাহ বাড়তে পারে।
এ কারণে কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১৯৫৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের জন্য কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর জন্য তৈরি হয় কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ। ১৯৫৬ সালে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয় এবং এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৬২ সালে।
এই বাঁধের পাশে ১৬টি জলকপাট সংযুক্ত ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ একটি পানি নির্গমন পথ বা স্পিলওয়ে রয়েছে। এই স্পিলওয়ে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হতে পারে।
শুরুর দিকে ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ ও ২ নম্বর ইউনিট স্থাপন করা হয়। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে মোট পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে, যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।