ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সিরাজগঞ্জে জনপ্রিয় হচ্ছে খাঁচায় মাছ চাষ, স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেকেই

গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:৪৯, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিরাজগঞ্জে জনপ্রিয় হচ্ছে খাঁচায় মাছ চাষ, স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেকেই
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ভালো লাভ হওয়ায় সিরাজগঞ্জে খাঁচায় মৎস্য চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নদী তীরবর্তী অনেকেই এখন খাঁচায় মাছ চাষ করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়েছে। সিরাজগঞ্জ মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর, চৌহালি ও সদর উপজেলায় ফুলজোড় বড়াল ও যমুনা নদীতে খাঁচায় প্রধানত মনোসেক্স তেলাপিয়া, কিছু ব্লেককার্প জাতের মাছ চাষ হচ্ছে। জেলায় ১০৫ জন চাষি ১ হাজার ৫৮৮টি খাঁচায় মাছ চাষ করছেন। 

ফুলজোড় নদীতে সারি সারি খাঁচায় মাছ চাষ করে অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন ৯০ যুবক। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সংখ্যা প্রায়  শতাধিক।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভূইয়াগাঁতী থেকে নলকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফুলজোড় নদীর দুই পাশে খাঁচায় মাছচাষির সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ। ৫ বছর আগে যেখানে ৩০ জন চাষি ছিল আজ সেখানে ৯০ জন মৎস্যচাষির ১২০০ খাঁচায় মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে প্রায় ৪ শতাধিক পরিবার সরাসরি মাছ চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। বাৎসরিক মাছের উৎপাদন হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার টন। এলাকায় ২০১১ সালে ফুলজোড় নদীতে নেট জাল দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি খাঁচায় মাছ চাষ শুরু হয়। এই কর্মসংস্থানের পথ দেখান দিন- মুজুর হোসেন আলী, শামছুল হক, আব্দুর রাজ্জাক, মিজানুর, জয়নাল। অবসর সময়ে মুজুরের কাজ করতে তারা চাঁদপুরের যান সেখান থেকে এ ধারণা নিয়ে এলাকায় শুরু করেন এই চাষ পদ্ধতি। ড্রাম নেট বাঁশ জাল দিয়ে ১৫ ফুট প্রস্ত ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের প্রতিটি খাঁচা তৈরিতে খরচা হয় ২০ হাজার টাকা।

২৮টি খাঁচায় তেলাপিয়া মাছচাষি মাস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তেলাপিয়ার পোনা (কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ পিচ) খাঁচায় ছাড়া হয়। পোনা থেকে প্রতি কেজি মাছ তৈরিতে পৌনে দুই কেজি ভাসমান ফিড খাবার ও ওষুধ দিলে ৫ মাসে একেকটি মাছের ওজন ১ কেজি হয়। ১ কেজি ওজনের মাছ তৈরিতে ১৭৫ টাকা খরচ হয়। বাজারে তেলাপিয়া (মনোসেক্স) মাছের চাহিদা বেশি থাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এই চাষ পদ্ধতি। আরেক চাষি লোকমান হোসেন বলেন, শীতকাল তেলাপিয়া মাছ চাষের উপযুক্ত মৌসুম, ফুলজোড় নদীতে ৬৫টি খাঁচায় মাছ চাষ করি।

ভূইয়াগাঁতী শ্মশানের পূর্ব পাশে ৪৫টি খাঁচায় (তেলাপিয়া) মাছচাষি (পুরস্কার প্রাপ্ত) আতাউর রহমান জানান, চৈত্র থেকে বৈশাখ মাস এই মাছ চাষের উপযুক্ত সময় কিন্তু উজান থেকে কেমিক্যাল নদীতে ছাড়ার কারণে মাছ মরে যায়। এতে আমরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হই।

রায়গঞ্জ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, ফুলজোড় নদীতে ১ হাজার  ২০০ খাঁচায় (তেলাপিয়া) মাছ চাষ করে দেশীয় মাছ উৎপাদনে চাষিরা একটি বড় ভূমিকা রাখছেন। স্থানীয় মৎস্য অফিস হতে মাছচাষিদের প্রশিক্ষণও নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় এনে এই মাছচাষিদের সহযোগিতার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 

সিনিয়র সহকারী পরিচালক জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ ঘোষ জানান, খাঁচায় মাছ চাষ, পরিদর্শন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে, তাছাড়া কোনো ধরনের রোগে আক্রান্ত মাছকে কি খাবার খাওয়ালে ভালো হয়, কোথা থেকে পোনা সংগ্রহ করতে হবে পানির গুণগত মান পরীক্ষা নিয়মিতভাবে করা হয়। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে মৎস্যচাষিরা সরকারি আর্থিক সহযোগিতা পেলে আগামীতে এই খাঁচায় মাছ চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি।

Advertisement
ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
ট্যাগ: সিরাজগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!