মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার করিমপুর গ্রামের ওসমান ডাক্তারের বাড়ির সামনে যশোর-নড়াইল মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহাদাত হোসেন (৭৫) বাঘারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গাজীপুরের টঙ্গীর হারবাইদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং পরে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অবসর নেন।
.png)
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ফজরের আজানের পর নামাজ পড়তে বাড়ি থেকে বের হন শাহাদাত হোসেন। যশোর-নড়াইল মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির অজ্ঞাত একটি মোটরযান তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এর কিছুক্ষণ পর ছেলে রেজাউল ইসলামও ফজরের নামাজ পড়তে বাড়ি থেকে বের হন। মসজিদের পথে সড়কের পাশে পড়ে থাকা মরদেহটি দেখে প্রথমে থেমে যান তিনি। অন্ধকারে মরদেহটি কার, তা বুঝতে পারেননি। কাছে গিয়ে মুখের দিকে তাকাতেই যেন পৃথিবীটা থমকে যায় সড়কের পাশে পড়ে থাকা মানুষটি তাঁর বাবা।
যে বাবাকে কিছুক্ষণ আগেই জীবিত অবস্থায় নামাজের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হতে দেখেছিলেন, সেই বাবার মরদেহই কিছুক্ষণ পর নিজের চোখের সামনে দেখতে হবে এমন নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় রেজাউল ইসলামকে।
শাহাদাত হোসেন শুধু শিক্ষকই ছিলেন না, স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি করিমপুর গ্রামে ‘অগ্রদূত সমবায় সমিতি’ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় উন্নয়নমূলক কাজে ভূমিকা রাখেন তিনি। স্থানীয়দের কাছে তিনি সমাজহিতৈষী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
প্রতিদিনের মতো ফজরের নামাজ পড়তে বের হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ভোর আর তাঁর ঘরে ফেরা হয়নি। বরং মসজিদের পথে বের হয়ে নিজের বাবার মরদেহ আবিষ্কারের সেই নির্মম স্মৃতি নিয়েই ফিরতে হলো ছেলে রেজাউলকে।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।